জীবনের সফল হওয়ার প্রথম ধাপ হলো সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রেখে এগিয়ে যাওয়া।এরপর সফলতার জন্য আরো কিছু ধাপ রয়েছে।এরমধ্যে প্রথম ধাপ হিসেবে আত্মবিশ্বাসকে ধরা
যায়। নিজের প্রতি বিশ্বাস না থাকলে কখনো সফলতার চূড়ায় পৌঁছাতে পারবোনা৷ এরকমই এক কাল্পনিক চরিত্রের কথা বলি, একটি মেয়ে ছিলো, যার জীবনে প্রতিকূলতার শেষ ছিলোনা।
সে প্রতিটা সময় যুদ্ধ করে করে ঠিকে থাকে। কিন্তু তার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস নেই। সে কোনো কিছু করতে, বলতে ভয় পাই কারণ সে আত্নবিশ্বাসী না। ফলে দেখা যায় তার ভাবনাচিন্তার কাজগুলো অন্য কেও করে ফেলে দিনশেষে মেয়েটার অনেক
মনখারাপ হয়ে যায়। এ কারণে মেয়েটা অনেক ব্যর্থতা পেয়েছে জীবনে। তার ব্যর্থতায় সে প্রতিরাত কাদতো, নিজের সাথে
যুদ্ধ করতো। একসময় সে ঠিক করলো না, সে নিজের প্রতি
আত্নবিশ্বাসী হবে তবে বেশি আত্মবিশ্বাসী না। তার ব্যর্থতাগুলো তার শক্তি হবে। সে আত্নবিশ্বাসী হয়, ব্যর্থতা গুলো শুধরে উঠতে
চেষ্টা করে এবং সে পেরেছে। সে ব্যর্থতা থেকেই নতুনভাবে শিখেছে লড়তে। তার অতীতগুলো বেদনাদায়ক ছিলো, সে তার
অনেক অতিপ্রিয় আপনজনকে হারিয়েছে তার
গুরত্বপূর্ণ মূহুর্তগুলোতে, তার অনেক স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছে, কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে,
দিনশেষে তাকে সার্পোট করার জন্য হাতেগুণা কয়েকজনও ছিলোনা কারণ সে তার কষ্টগুলো কাওকে শেয়ার করতে পারিনি নির্ভয়ে। সে কাঁদতে কাঁদতে শিখেছে মানুষের অতীত থাকেনা, অতীত চলে যায়, অতীত কষ্ট দিক বা সুখ দিক একদিন সে বিদায় নেই, মেয়েটি নিজেকে সামলেছে, অতীতের সব কষ্টের সাথে যুদ্ধ করার চেষ্টা করছে, সে তার যে স্বপ্নগুলো হারিয়েছে এখন সেগুলো
নিয়ে তার আফসোস নেই। কারণ ভবিষ্যৎ বলতে কি আদৌ কিছু কি হয়? অতীত কি চিরস্থায়ী আমাদের জীবনে?
তাহলে চিরস্থায়ী কি রইলো?? রইলো আমাদের
বর্তমান।ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে বর্তমানকে নষ্ট করে দেওয়া বা অতীত নিয়ে পড়ে থেকে বর্তমানকে নষ্ট
করে দেওয়া নেহাতই বোকামি। মেয়েটি এসব উপলব্দি করার চেষ্টা করছে, এবং সে তার অতীতের কষ্ট ও ভবিষ্যৎ এর চিন্তা ফেলে
দিয়ে বর্তমানকে ঘিরে হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করছ। সে তার সব ব্যর্থতাকে ভুলে একজন ভালোমানুষ, ভালো মেয়ে হওয়ার জন্য অধ্যবসায় করছে। সে চেষ্টা করছে নিজেকে নিজে অনুপ্রাণিত করে
বাকিদের কে অনুপ্রাণিত করার জন্য। সে একজন লড়াকু, সে নিজেকে অনুপ্রাণিত করে মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে, সে ভবিষ্যৎ আর
অতীত ফেলে বর্তমান নিয়ে এগোচ্ছে, সে
আত্নবিশ্বাসী হয়েছে, সে তার ব্যর্থতাগুলোর সাথে
লড়ছে। সমাজের যেসব মানুষ প্রতিনিয়ত নিজের সাথে
লড়ে, প্রতিকূলতার সাথে লড়ে নিজেকে অনুপ্রাণিত করে বাকিদের অনুপ্রাণিত করছে তাদের প্রতি
রইলো অনেক ভালোবাসা, বিনম্র শ্রদ্ধা।তাদের কারণেই সমাজের কিছু মানুষ এখনো
মেন্টাল সার্পোটে ঠিকে আছে, অনুপ্রাণিত হয়ে
নিজের জীবনকে গুছাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
লেখক-
নুসরাত আরজু প্রিয়া
শিক্ষার্থী, সরকারি হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজ,চট্টগ্রাম।