আব্বাস হোসাইন আফতাব :
বিদ্যালয়ে ছুটির ঘণ্টা বেজেছে। শিক্ষার্থীরা যে যার মতো বাড়ির পথে। কিন্তু শিক্ষকদের দায়িত্ব যেন তখনও শেষ হয়নি। এবার তাঁদের গন্তব্য শ্রেণিকক্ষ নয় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বাড়ি।
রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের নির্দেশে বৃহষ্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিদ্যালয় ছুটির পর শিক্ষকরা অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে এবং তাদের পড়াশোনার তদারকি করতে বাড়ি বাড়ি বের হন। কেন কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে না, পড়াশোনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, পারিবারিক বা অন্য কোনো কারণে সে বিদ্যালয় থেকে দূরে থাকছে কি না এসব বিষয়ে সরাসরি খোঁজ নিতেই শিক্ষকদের এই উদ্যোগ।শিক্ষকদের এভাবে রাস্তায় দেখে পথের শিশু-কিশোরদের মধ্যেও তৈরি হয় কৌতূহল। তারা অবাক হয়ে জানতে চায়, “স্যাররা কোথায় যাচ্ছেন?” শিক্ষকরা যখন একের পর এক শিক্ষার্থীর বাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, তখন পেছনে তাকিয়ে দেখা গেল আরও চমৎকার এক দৃশ্য। শিক্ষার্থীরা একে একে শিক্ষকদের পেছনে হাঁটতে শুরু করেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি।দৃশ্যটি যেন মনে করিয়ে দেয় হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্প। তবে এখানে কোনো বাঁশির সুর নেই; আছে শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৌতূহল।শিক্ষকরা এসেছেন অনুপস্থিতদের খুঁজতে, আর সেই শিক্ষকরাই হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীদের কাছে অনুসরণ করার মানুষ।বিদ্যালয়ের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের খোঁজ নেওয়ার এই উদ্যোগে ফুটে উঠেছে দায়িত্বশীলতার অন্যরকম দৃষ্টান্ত। একজন শিক্ষার্থী কেন স্কুলে নেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যখন শিক্ষক নিজেই শিক্ষার্থীর বাড়ির দরজায় পৌঁছে যান, তখন শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; হয়ে ওঠে দায়িত্ব, মমতা ও মানবিকতার বিষয়।অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের খোঁজে শিক্ষকদের এই পথচলা তাই কেবল তদারকি নয়, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের পথে ধরে রাখার এক আন্তরিক প্রয়াস। 