বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিদ্যালয়-মাদ্রাসার পাশে উন্মুক্ত ডাস্টবিন, দুর্ভোগ ইউএনও পরিচয়ে ফোন, রাঙ্গুনিয়ায় প্রতারণার চেষ্টা রাঙ্গুনিয়ায় পৌর কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন গ্রাম আদালতে কোনো বিচার-শালিস যাতে পেন্ডিং না থাকে -বেতাগীতে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক  রাঙ্গুনিয়ায় এক মাসব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান সরফভাটায় বিএনপি নেতাকে হ’ত্যাচেষ্টা মা’মলার আ’সামি গ্রে’প্তার বেতাগীতে কেরাত ও নাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সন্তান জন্মের আনন্দে মিষ্টি বিলিয়েছিলেন, কয়েক ঘণ্টা পরই মৃত্যু শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু ভালো ফল নয়, জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মানুষের কল্যাণে অবদান রাখা – ইকবাল হাছান লিচুবাগান থেকে মরিয়মনগর কমেনি সিএনজি ভাড়া

লিচুবাগান থেকে মরিয়মনগর কমেনি সিএনজি ভাড়া

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯৪ বার পড়া হয়েছে

সৌরভ সাহা :
সকাল থেকে সন্ধ্যা কাপ্তাই সড়কের লিচুবাগান এলাকায় সিএনজি অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করেন যাত্রীরা। কেউ স্কুল-কলেজে যাচ্ছেন, কেউ কর্মস্থলে, আবার কেউ বাজার কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে মরিয়মনগরের দিকে। অটোরিকশায় উঠলেই ভাড়ার হিসাবটা যেন নতুন করে শুরু হয়। লিচুবাগান থেকে মরিয়মনগর আগে জনপ্রতি ভাড়া ছিল ১৫ টাকা। গ্যাসের সংকটের সময় সেই ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় ২০ টাকায়। এখন গ্যাসের সংকট অনেকটাই স্বাভাবিক হলেও কমেনি সেই ভাড়া।
এ নিয়ে নিয়মিত যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ভাড়া নিয়ে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হচ্ছে। কেউ ১৫ টাকা দিতে চাইলে চালক ২০ টাকা দাবি করছেন এমন অভিযোগও রয়েছে। রাঙ্গুনিয়ার কাপ্তাই সড়কের লিচুবাগান–মরিয়মনগর রুটের এ চিত্র এখন অনেকটা পরিচিত হয়ে উঠেছে।
পাঁচ টাকা, কিন্তু প্রতিদিনের হিসাবটা বড়
লিচুবাগান থেকে মরিয়মনগর পর্যন্ত জনপ্রতি পাঁচ টাকা বাড়তি ভাড়া হয়তো একবারের যাত্রায় খুব বেশি মনে নাও হতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন যাতায়াত করা মানুষের কাছে হিসাবটা ভিন্ন।
একজন শিক্ষার্থী কিংবা চাকরিজীবী দিনে দুইবার এ পথে যাতায়াত করলে অতিরিক্ত পাঁচ টাকা করে দৈনিক ১০ টাকা ব্যয় হয়। মাসের কর্মদিবস হিসাব করলে বাড়তি খরচের পরিমাণও কম নয়। ফলে নিয়মিত যাত্রীদের কাছে বিষয়টি শুধু পাঁচ টাকার নয়, বরং প্রতিদিনের ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি বাড়তি চাপ।
স্থানীয় যাত্রীদের ভাষ্য, গ্যাসের সংকটের সময় পরিস্থিতি বিবেচনায় ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি তাঁরা মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু সংকট অনেকটাই স্বাভাবিক হওয়ার পরও আগের ভাড়া কার্যকর না হওয়ায় তাঁদের প্রশ্ন সংকটের সময়ের ভাড়া কি স্থায়ী হয়ে গেল?
ভাড়া নিয়ে পথে পথে বাগ্‌বিতণ্ডা
লিচুবাগান থেকে মরিয়মনগরগামী সিএনজি অটোরিকশায় উঠতে গিয়ে ভাড়া নিয়ে চালক ও যাত্রীর মধ্যে তর্কে জড়ানোর ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানান।
কেউ কেউ আগের ভাড়া ১৫ টাকা দেওয়ার চেষ্টা করলে চালকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। চালকেরা ২০ টাকা ভাড়া দাবি করেন। যাত্রীদের কেউ বাড়তি ভাড়া দিতে আপত্তি করলে তৈরি হয় বাগ্‌বিতণ্ডা।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু যাত্রী ও চালকের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে না, সড়কের পরিবেশেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
ভাড়া কত, তা নিয়ে স্পষ্টতা চান যাত্রীরা
যাত্রীদের মূল প্রশ্ন ভাড়া বাড়ানো যাবে কি না শুধু তা নয়; বরং নির্ধারিত ভাড়া কত, সেটি স্পষ্টভাবে জানানো হবে কি না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো রুটে ভাড়া পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত এবং যাত্রীদের জানার মতো ভাড়ার তালিকা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু প্রকাশ্য কোনো ভাড়ার তালিকা না থাকায় যাত্রী ও চালকের মধ্যে মতবিরোধের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
যাত্রীদের কেউ কেউ বলছেন, কর্তৃপক্ষ যদি যাচাই করে নির্ধারিত ভাড়া প্রকাশ করে দেয়, তাহলে যাত্রী ও চালক দুই পক্ষেরই সুবিধা হবে। ভাড়া নিয়ে প্রতিদিনের তর্কও কমবে।
চালকদেরও আছে ব্যয়ের হিসাব
অন্যদিকে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা ব্যয় রয়েছে। গ্যাসের সংকটের সময় জ্বালানি সংগ্রহে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয়ের কারণে ভাড়া বাড়ানোর দাবি উঠেছিল বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।
তবে এখন গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্বাভাবিক হওয়ায় সেই বাড়তি ভাড়া অব্যাহত রাখার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন যাত্রীরা।
তাঁদের বক্তব্য, চালকদের ব্যয়ের বিষয়টি যেমন বিবেচনায় নেওয়া দরকার, তেমনি সাধারণ যাত্রীদের সামর্থ্যের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
সমাধান চান দুই পক্ষই
লিচুবাগান–মরিয়মনগর রুটে সিএনজি ভাড়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের স্থায়ী সমাধান চান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, ভাড়া নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।
কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিস্থিতি যাচাই করে নির্ধারিত ভাড়া জানিয়ে দিলে চালক ও যাত্রী দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি কমবে। পাশাপাশি নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে দেওয়া হলে প্রতিদিনের দর-কষাকষিরও অবসান হতে পারে।
লিচুবাগান–মরিয়মনগর রুটের যাত্রীদের প্রত্যাশা, গ্যাস সংকটের সময়ের বাড়তি ভাড়া নিয়ে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তার একটি পরিষ্কার ও গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে। পাঁচ টাকা নিয়ে প্রতিদিনের বাগ্‌বিতণ্ডার বদলে নির্ধারিত ভাড়ার একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা চান তাঁরা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews