রাঙ্গুনিয়ায় পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে সালিশি বৈঠকের নয় দিন পর অঞ্জনা দাস (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ) রাতে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
অঞ্জনা দাস উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের পূর্ব চন্দ্রঘোনা হিন্দুপাড়ার কাঞ্চন দাস ওরফে লাল সাধুর স্ত্রী। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছুদিন আগে অঞ্জনা দাসের বিরুদ্ধে এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ তোলেন তাঁর স্বামী। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠক বসে। সেখানে অঞ্জনার সঙ্গে ওই যুবকের কিছু ছবি ও ভিডিও দেখানো হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এতে অঞ্জনা সামাজিক ও মানসিকভাবে অপমানিত হন বলে তাঁদের দাবি।
পরিবারের ভাষ্য, সালিশের কয়েক দিন পর ৪ সেপ্টেম্বর অঞ্জনা নিজ বাড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সালিশে অঞ্জনাকে যেভাবে অপমান করা হয়েছিল, সেটি তাঁর ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে থাকতে পারে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।