বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিদ্যালয়-মাদ্রাসার পাশে উন্মুক্ত ডাস্টবিন, দুর্ভোগ ইউএনও পরিচয়ে ফোন, রাঙ্গুনিয়ায় প্রতারণার চেষ্টা রাঙ্গুনিয়ায় পৌর কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন গ্রাম আদালতে কোনো বিচার-শালিস যাতে পেন্ডিং না থাকে -বেতাগীতে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক  রাঙ্গুনিয়ায় এক মাসব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান সরফভাটায় বিএনপি নেতাকে হ’ত্যাচেষ্টা মা’মলার আ’সামি গ্রে’প্তার বেতাগীতে কেরাত ও নাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সন্তান জন্মের আনন্দে মিষ্টি বিলিয়েছিলেন, কয়েক ঘণ্টা পরই মৃত্যু শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু ভালো ফল নয়, জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মানুষের কল্যাণে অবদান রাখা – ইকবাল হাছান লিচুবাগান থেকে মরিয়মনগর কমেনি সিএনজি ভাড়া

ছুটির দিনেও স্কুলের শিক্ষার্থীরা, লক্ষ্য পড়ার ঘাটতি পূরণ

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শনিবার। বিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। অন্য দিনের মতো সকাল থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের কোলাহল থাকার কথা নয়। তবে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের চিত্র ছিল ভিন্ন। দশম শ্রেণির পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা বই-খাতা নিয়ে হাজির হয়েছে বিদ্যালয়ে। ছুটির দিনেও চলছে তাদের বিশেষ ক্লাস। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে দশম শ্রেণির পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত শ্রেণি কার্যক্রম। প্রতি শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী এ বিশেষ ক্লাস চলবে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের নির্দেশনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি যেসব শিক্ষার্থী কোনো বিষয়ে পিছিয়ে আছে, তাদের বাড়তি সময় দিয়ে শেখার ঘাটতি পূরণ করাই এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সামনে পাবলিক পরীক্ষা। এ সময়ে কোনো বিষয়ে দুর্বলতা থাকলে তা কাটিয়ে উঠতে বাড়তি অনুশীলনের প্রয়োজন হয়। তাই ছুটির দিনের তিন ঘণ্টাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক পাঠদান ও অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী বিশেষ ক্লাসে শিক্ষার্থীদের দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে পাঠদান করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অনুশীলন ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
‘পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে হবে’
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, “দশম শ্রেণির কোনো শিক্ষার্থী যেন পড়াশোনায় পিছিয়ে না থাকে, সে বিষয়টি আমাদের গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। যেসব শিক্ষার্থী কোনো বিষয়ে দুর্বল, তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াই এই বিশেষ ক্লাসের উদ্দেশ্য। ছুটির দিনে অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।”
‘দুর্বলতা চিহ্নিত করে পাঠদান’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম মিজানুর রহমান বলেন, “দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা বিভিন্ন বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে, তাদের আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার জন্যই এই বিশেষ ক্লাসের আয়োজন। প্রতি শনিবার নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী তিন ঘণ্টা অতিরিক্ত পাঠদান করা হবে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও অনুশীলনের সুযোগ দেবেন।”
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি সদস্য আব্বাস হোসাইন আফতাব বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ যাতে পড়াশোনায় পিছিয়ে না থাকে, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তাই যারা কোনো বিষয়ে দুর্বল বা পিছিয়ে রয়েছে, তাদের জন্য ছুটির দিনেও অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সহযোগিতায় এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণ করে তাদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে চাই।”
ছুটির দিনে বাড়তি তিন ঘণ্টা ক্লাস করতে শিক্ষার্থীদের অনেকের কাছেই বিষয়টি নতুন অভিজ্ঞতা। তবে তাদের জন্য এই সময়টি শুধু অতিরিক্ত ক্লাস নয়, বরং যে জায়গাগুলোতে তারা পিছিয়ে আছে, সেগুলো পূরণ করার সুযোগ।
নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি এমন বিশেষ পাঠদান কতটা কাজে আসে, তা বোঝা যাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি ও পরীক্ষার ফলাফলে। আপাতত লক্ষ্য একটাই, কোনো শিক্ষার্থী যেন শেখার দৌড়ে পিছিয়ে না থাকে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews