আব্বাস হোসাইন আফতাব :
সকাল থেকেই মরিয়মনগরের বিভিন্ন স্থানে ছিল ব্যস্ততা। হাতে বেলচা, বস্তা ও ময়লা সংগ্রহের সরঞ্জাম নিয়ে একে একে জড়ো হচ্ছিলেন স্বেচ্ছাসেবীরা। কেউ সড়কের পাশে পড়ে থাকা ময়লা তুলছেন, কেউ পরিষ্কার করছেন আশপাশের জায়গা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। পরিচ্ছন্নতার এই কাজে কারও পরিচয় তখন বড় হয়ে ওঠেনি; সবার পরিচয় ছিল স্বেচ্ছাসেবী।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়ায় এমনই এক সম্মিলিত উদ্যোগে পরিচালিত হয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও আল হাইথাম কল্যাণ ট্রাস্টের সহযোগিতায় মরিয়মনগর ইউনিয়নের পাঁচটি স্থানে একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে উপজেলার ২০টি যুব, মানবিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিভিন্ন সংগঠনের তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীরা দলবদ্ধ হয়ে নেমে পড়েন পরিচ্ছন্নতার কাজে। সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্থানীয়দের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
উদ্বোধন করে কাজে নামলেন ইউএনও মো. নাজমুল হাসান। শুধু উদ্বোধন করেই থেমে থাকেননি তিনি। স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে নিজেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।
প্রশাসনের একজন কর্মকর্তাকে স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে একই সারিতে কাজ করতে দেখে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেও উৎসাহ তৈরি হয়। বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে নির্ধারিত স্থানগুলো পরিষ্কার করেন।
এ সময় উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. নাজিম উদ্দিনসহ সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পাঁচটি স্থানে একযোগে অভিযান
মরিয়মনগর ইউনিয়নের পাঁচটি স্থানে একযোগে পরিচালিত হয় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। কোথাও সড়কের পাশে জমে থাকা আবর্জনা, কোথাও জনসমাগমস্থলের ময়লা পরিষ্কার করেন স্বেচ্ছাসেবীরা।
অভিযানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। নিজেদের এলাকার পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিজেরাই নেওয়ার এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তাঁরা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এক দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরি হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা এবং নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে উঠবে।
পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়
একটি পরিচ্ছন্ন জনপদ গড়ে তুলতে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ। সেই জায়গা থেকেই রাঙ্গুনিয়ার এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনসম্পৃক্ত করা সম্ভব।
মরিয়মনগরের পাঁচটি স্থানে স্বেচ্ছাসেবীদের এই সম্মিলিত উদ্যোগ তাই শুধু ময়লা-আবর্জনা সরানোর কর্মসূচি হয়ে থাকেনি। এর মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে নাগরিক দায়িত্বের কথাও। প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা যখন একই লক্ষ্যে মাঠে নামেন, তখন পরিচ্ছন্নতার বার্তাটি পৌঁছে যায় আরও অনেক মানুষের কাছে।
সড়ক পরিষ্কার হয়েছে, সরেছে ময়লা-আবর্জনা। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সচেতনতার যে বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে, পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া গড়তে শুধু অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, নিজের জায়গা থেকে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে জানালেন পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেয়া ‘বন্ধু সমাবেশ’ এর সচিব এম মোরশেদ আলম।