আব্বাস হোসাইন আফতাব: একজনের কণ্ঠে নজরুলের গান, আরেকজনের কণ্ঠে কবিতার ছন্দ। কেউ গানে, কেউ নৃত্যে মুগ্ধ করেছে বিচারকদের। চার শিক্ষার্থীর চার রকমের পরিবেশনা যেন তুলে ধরেছে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বহুমাত্রিক সৃষ্টিকে।
নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ে আয়োজিত জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় এমনই সাফল্য পেয়েছে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের চার কৃতি শিক্ষার্থী। চারটি পৃথক বিষয়ে অংশ নিয়ে সবাই অর্জন করেছে প্রথম স্থান।
নজরুলসংগীতের ‘ক’ বিভাগে চিনু চৌধুরী, ‘খ’ বিভাগে অপ্সরী বড়ুয়া ফ্লোরা, কবিতা আবৃত্তির ‘খ’ বিভাগে তাবীবাহ আহসান তাহিয়া এবং একক নৃত্যের ‘খ’ বিভাগে সৃজনা বড়ুয়া প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
চিনু চৌধুরী ও অপ্সরী বড়ুয়া ফ্লোরার কণ্ঠে উঠে এসেছে নজরুলের গান। উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে তারা প্রথম স্থান অর্জন করেছে। নজরুলের গান যে শুধু পরিবেশনের বিষয় নয়, এর মধ্যে রয়েছে আবেগ, সুর ও বক্তব্য তাদের পরিবেশনায় তারই প্রকাশ ঘটেছে।
কবিতা আবৃত্তির ‘খ’ বিভাগে প্রথম হয়েছে তাবীবাহ আহসান তাহিয়া। শব্দ, ছন্দ ও আবেগের সমন্বয়ে কবিতা পরিবেশন করে সে অর্জন করেছে সেরার স্বীকৃতি। নজরুলের কবিতার শক্তি ও আবেগকে নিজের কণ্ঠে তুলে ধরাই ছিল তার পরিবেশনার মূল আকর্ষণ।
একক নৃত্যের ‘খ’ বিভাগে প্রথম হয়েছে সৃজনা বড়ুয়া। নৃত্যের ছন্দ ও অভিব্যক্তির মধ্য দিয়ে সে নজরুলের সৃষ্টিকে উপস্থাপন করেছে ভিন্ন এক ভাষায়। তার পরিবেশনাও পেয়েছে বিচারকদের স্বীকৃতি।
একই বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর চার বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জনের ঘটনায় আনন্দিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। তাঁদের মতে, পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ ও উৎসাহ শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এই চার শিক্ষার্থীর অর্জন শুধু চারটি পুরস্কারের গল্প নয়। এটি একটি বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক চর্চা, শিক্ষার্থীদের আগ্রহ এবং নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার চেষ্টারও গল্প।
নজরুল বর্ষে চার কিশোর-কিশোরীর কণ্ঠ, ছন্দ ও নৃত্যে তাই যেন নতুন করে ধ্বনিত হলো নজরুলেরই সৃষ্টির জয়গান। উপজেলা পর্যায়ের এই সাফল্য পেরিয়ে সামনে আরও বড় মঞ্চে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখার প্রত্যাশা এখন তাদের।