আব্বাস হোসাইন আফতাব: কর নিয়ে আপত্তি আছে? নির্ধারিত করের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে? কিংবা নিজের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে করের সামঞ্জস্য নিয়ে কথা বলতে চান? রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার নাগরিকদের জন্য এখন সেই সুযোগ রয়েছে সরাসরি শুনানিতে।
প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত দিনে বিভিন্ন ওয়ার্ডের নাগরিকদের নিয়ে শুনানি করছে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা। সেখানে নাগরিকেরা তাঁদের করসংক্রান্ত বক্তব্য ও আপত্তি সরাসরি তুলে ধরছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য যাচাই করছেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী করসংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিকদের নিয়ে এমনই একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওই ওয়ার্ডের নাগরিকেরা উপস্থিত হয়ে তাঁদের করসংক্রান্ত বিভিন্ন আপত্তি ও বক্তব্য তুলে ধরেন। সেখানে ৫১ টি আপত্তি নিষ্পত্তি হয়। রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভা। পৌর কর চূড়ান্তকরণ ও কর রিভিউ বিষয়ে গঠিত কমিটির সভায় নাগরিকদের অবস্থান, আয় এবং পৌরসভা থেকে পাওয়া সেবার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শুনানির মাধ্যমে কর চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পৌরকর নির্ধারণের আইনগত ভিত্তি
পৌরসভায় কর নির্ধারণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করতে হয়। পৌরকর আরোপের প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯, পৌরসভা কর আরোপ ও আদায় পদ্ধতি বিধিমালা, ২০১৩ এবং পৌরসভা আদর্শ কর তফসিল, ২০১৪ অনুসরণ করার বিধান রয়েছে।
এসব আইন ও বিধিমালার আলোকে পৌরসভা কর নির্ধারণ, পুনর্নির্ধারণ, আপত্তি ও রিভিউসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। কর নির্ধারণ নিয়ে কোনো নাগরিকের আপত্তি থাকলে তা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে। রাঙ্গুনিয়া পৌরসভায় বর্তমানে বিভিন্ন ওয়ার্ডের নাগরিকদের নিয়ে যে শুনানি হচ্ছে, সেটিও কর চূড়ান্তকরণ ও রিভিউ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
কমিটির সভাপতি ও পৌরসভার সহায়ক সদস্য উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘পৌর কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কর নিয়ে কোনো নাগরিকের আপত্তি বা অসঙ্গতি থাকলে শুনানির মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য শোনা হচ্ছে। নাগরিকের অবস্থান, আয় ও পৌরসভার দেওয়া সেবাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে নিয়ম অনুযায়ী কর চূড়ান্ত করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে শুনানির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে নাগরিকদের করসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।’
পৌরসভার কর নির্ধারক মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘শুনানিতে নাগরিকদের বক্তব্য ও আপত্তি যাচাই করে নিয়ম অনুযায়ী করসংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত দিনে এ কার্যক্রম চলবে।’
শুধু কর নয়, নাগরিকের কথাও
পৌর কর নির্ধারণের সঙ্গে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন ও সামর্থ্যের বিষয়টি জড়িত। তাই শুনানিতে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ থাকায় করসংক্রান্ত আপত্তি ও অসঙ্গতির বিষয়গুলো সরাসরি জানাতে পারছেন নাগরিকেরা।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শুনানির মাধ্যমে নাগরিকদের বক্তব্য জানার পাশাপাশি কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পৌরসভার অন্যান্য ওয়ার্ডের নাগরিকদের নিয়েও শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
কর চূড়ান্তকরণ ও রিভিউ বিষয়ে গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু, উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রানী গোপ।