আব্বাস হোসাইন আফতাব : প্রতিবন্ধকতা তাঁদের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার দুই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মো. মনির ও আঁখি সুলতানা। এবার তাঁদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণের পথে পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।
দুই শিক্ষার্থীর কলেজে ভর্তি, বই কেনা ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইউএনও।
মনির রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ব্যবসায় শিক্ষা থেকে জিপিএ ৩ দশমিক ১১ পেয়েছেন। আর আঁখি সুলতানা বেদৌরা আলম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৪ দশমিক ১৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
দুই শিক্ষার্থীর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁদের শিক্ষার আগ্রহে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বরং নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তাঁরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।
পরীক্ষার সময় মনিরকে শ্রুতিলেখকের সহযোগিতা দেওয়া হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন এওয়াক এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় খুশি মনির।
মনির বলেন, শ্রুতিলেখকের সহযোগিতা পাওয়ায় তাঁর পরীক্ষা দেওয়া সহজ হয়েছে। এ সহযোগিতার জন্য তিনি ইউএনও মো. নাজমুল হাসান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এওয়াকের প্রধান নির্বাহী মো. সফিউল আজম সিরাজী বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সহযোগিতা করা জরুরি। সুযোগ পেলে তাঁরাও অন্যদের মতো নিজেদের যোগ্যতা ও মেধার বিকাশ ঘটাতে পারেন।
মনির ও আঁখির এসএসসি পাসের খবর জানার পর তাঁদের উচ্চশিক্ষা নিয়ে আগ্রহ দেখান ইউএনও মো. নাজমুল হাসান। কলেজে ভর্তি হওয়ার পরও যাতে তাঁদের পড়াশোনা থেমে না যায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি।
প্রশাসনের এমন উদ্যোগে নতুন করে আশাবাদী হয়েছেন দুই শিক্ষার্থী। তাঁদের স্বপ্ন এখন কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
শিক্ষাজীবনে প্রতিবন্ধকতা থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকেই নানা কারণে মাধ্যমিকের পর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন না। অর্থনৈতিক সংকট, প্রয়োজনীয় সহায়ক ব্যবস্থা ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা তাঁদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মনির ও আঁখির ক্ষেত্রে সেই বাধা যেন তাঁদের ভবিষ্যতের পথে দেয়াল হয়ে না দাঁড়ায় এ উদ্যোগ সেই আশাই জাগিয়েছে।
মনির-আঁখির সাফল্য তাই শুধু দুটি এসএসসি ফলাফলের গল্প নয়। এটি প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্ন দেখার এবং সুযোগ পেলে সেই স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। তাঁদের সেই পথচলায় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতা হয়ে উঠেছে নতুন আশার আলো।