আব্বাস হোসাইন আফতাব: উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ২৫ টি কমিউনিটি ক্লিনিককে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলার আরও কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিককে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ক্লিনিকগুলোর মধ্যে রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সাবেক নাথপাড়া, মরিয়মনগরের দক্ষিণ ইছামতি, পারুয়ার উত্তর পারুয়া ও মধ্য পারুয়া, পোমরার মধ্যম নোয়াগাঁও, শিলকের নটুয়ারটিলা ও ফকিরাঘাট, পদুয়ার ফলাহারিয়া, চন্দ্রঘোনার সুফিপাড়া, দক্ষিণ রাজানগরের ফুলবাগিচা, লালানগরের বেড়িবাঁধ, মরিয়মনগরের মৌলভীপাড়া, বেতাগীর তিনসৌদিয়া এবং সরফভাটার দক্ষিণ সরফভাটা ও মৌলানাগ্রাম কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে সেবা
পদুয়া ইউনিয়নের ফলাহারিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনটিও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পুরোনো ওয়ার্ড বিন্যাসে ক্লিনিকটি ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ছিল। বর্তমানে এটি ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র।
ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন।
ফলারিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নঈম উদ্দিন বলেন, ‘ক্লিনিক ভবনটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তারপরও এলাকার মানুষের কথা বিবেচনা করে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিদিন স্থানীয় মানুষ এখানে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন।’
তিনি বলেন, ‘ভবনটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা হলে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী উভয়ের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হবে। ক্লিনিকটি পুনর্নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষ আরও ভালো পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ভবনটি পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি।’
মধ্যম ঝুঁকিতেও কয়েকটি ক্লিনিক
মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ক্লিনিকগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজানগরের এসএম খাগড়াকুল, হোসনাবাদের দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর, মরিয়মনগরের মাইজপাড়া, সরফভাটার মীরেরখীল, পদুয়ার নারিশ্চা মৌলভীপাড়াও পশ্চিম খুরশিয়া, ইসলামপুরের উত্তর ঘাগড়া, দক্ষিণ রাজানগরের খোরশেদ তালুক এবং লালানগরের আলমশাহ কমিউনিটি ক্লিনিক।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিশেষ করে মা ও শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং সাধারণ রোগীদের জন্য এসব ক্লিনিক সহজে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
তাঁদের অভিযোগ, ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও সেখানে সেবা কার্যক্রম চলায় রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এ ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ক্লিনিকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণ করা হোক। একই সঙ্গে মধ্যম ঝুঁকিতে থাকা ক্লিনিকগুলোর অবস্থাও পরিদর্শন করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রাখা যেমন জরুরি, তেমনি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য নিরাপদ ভবন নিশ্চিত করাও জরুরি।