বাবার ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের গল্পে সাজানো মা ভবানী একতা সংঘের পূজামণ্ডপ
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়ায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মা ভবানী একতা সংঘের ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘শ্রীচরণেষু—বাবা’ শীর্ষক থিম পরিদর্শন করেছে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল।
সংগঠনটির ঐতিহ্যের ষষ্ঠ বর্ষের দুর্গোৎসবে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে স্থান পেয়েছে বাবার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে সাজানো এই থিম। একজন বাবার নীরব সংগ্রাম, পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেওয়ার গল্প এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে একজন বাবা প্রতিনিয়ত নিজের চাওয়া-পাওয়াকে আড়াল করেন। পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহ্য করেন নানা প্রতিকূলতা। তাঁর অনেক কষ্ট, ত্যাগ ও ভালোবাসা প্রকাশ পায় না কথায়; বরং নীরবে ধরা দেয় দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি দায়িত্বে। ‘শ্রীচরণেষু—বাবা’ থিমের মধ্য দিয়ে সেই অপ্রকাশিত অনুভূতিগুলোকে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস নিয়েছে আয়োজক সংগঠনটি।
দুর্গোৎসব সাধারণত আনন্দ, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের এক মিলনমেলা। সেই উৎসবে বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা ও পারিবারিক বন্ধনের বিষয়টি যুক্ত করে আয়োজনটি পেয়েছে ভিন্নমাত্রা। থিমটির ভাবনায় রয়েছে বাবার অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং জীবনের ব্যস্ততায় তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
এদিকে দুর্গোৎসব চলাকালে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের দলটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছে। উৎসবের সময়ে জনসমাগম ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ ধরনের পরিদর্শন তাৎপর্যপূর্ণ। তবে পরিদর্শনের সময় নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি মানবিক অনুভূতি ও পারিবারিক মূল্যবোধকে সামনে আনার মধ্য দিয়ে মা ভবানী একতা সংঘের এবারের উদ্যোগ স্থানীয় দুর্গোৎসবে একটি স্বতন্ত্র ভাবনা তুলে ধরেছে। ‘শ্রীচরণেষু—বাবা’ থিম দর্শনার্থীদের কাছে বাবার ভালোবাসা, ত্যাগ ও দায়িত্বের গল্প নতুনভাবে অনুভব করার সুযোগ তৈরি করেছে।