রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডেন্টাল চিকিৎসক বা ডেন্টিস্ট পরিচয়ে চেম্বার পরিচালনা করে দাঁত ও মুখগহ্বরের চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রায় ২৫ জন ডেন্টাল টেকনিশিয়ানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, তাঁদের অনেকেরই ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) ডিগ্রি ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) বৈধ নিবন্ধন নেই। এ কারণে তাঁদের চিকিৎসা কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ কোর্স, কারিগরি প্রশিক্ষণ কিংবা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকা কিছু ব্যক্তি নিজেদের ডেন্টাল চিকিৎসক বা ডেন্টিস্ট পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় চেম্বার পরিচালনা করছেন। এসব চেম্বারে দাঁত তোলা, ফিলিং, রুট ক্যানেল, সার্জারি, প্রেসক্রিপশনসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
চন্দ্রঘোনা, রোয়াজারহাট, মরিয়মনগর চৌমুহনী, উত্তর রাঙ্গুনিয়া, শান্তিরহাট ও পদুয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের চেম্বার রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক রোগী চিকিৎসা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পেশাগত নিবন্ধন যাচাই করেন না বলেও স্থানীয়দের দাবি।
সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা বলছেন, ডেন্টাল টেকনিশিয়ান ও ডেন্টাল সার্জনের দায়িত্ব ও পেশাগত যোগ্যতা এক নয়। ডেন্টাল টেকনিশিয়ানরা মূলত দন্ত চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী কারিগরি ও ল্যাবরেটরি কাজে সহযোগিতা করেন। অন্যদিকে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা, প্রেসক্রিপশন এবং রোগীর মুখে ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত পেশাগত যোগ্যতা ও নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়।
এ কারণে কেউ ডেন্টাল টেকনিশিয়ান হিসেবে প্রশিক্ষিত বা অভিজ্ঞ হলেও স্বাধীনভাবে রোগী দেখার আইনগত যোগ্যতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জয়নাব জমিলা বলেন, ডেন্টাল চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা ও নিবন্ধন থাকা প্রয়োজন। রাঙ্গুনিয়ায় ডেন্টাল টেকনিশিয়ানদের চেম্বার পরিচালনা ও রোগী দেখার বিষয়ে অভিযোগ থাকলে বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অনুমোদন ছাড়া কেউ চিকিৎসা দিয়ে থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, রাঙ্গুনিয়ায় দাঁতের চিকিৎসা দেওয়া ব্যক্তিদের বিডিএস ডিগ্রি ও বিএমডিসি নিবন্ধন যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চেম্বারের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তাঁদের প্রশ্ন, বিডিএস ডিগ্রি ও প্রয়োজনীয় নিবন্ধন না থাকা কোনো ব্যক্তি যদি স্বাধীনভাবে রোগী দেখেন, প্রেসক্রিপশন দেন কিংবা ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা পরিচালনা করেন, তাহলে এর আইনগত ভিত্তি কী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দাঁত ও মুখগহ্বরের চিকিৎসায় ভুল রোগ নির্ণয় বা ভুল পদ্ধতি অনুসরণ করলে রোগীর জটিলতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে চিকিৎসায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত না হলে সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই রোগীর নিরাপত্তার স্বার্থে যোগ্য ও নিবন্ধিত পেশাজীবীর মাধ্যমে চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ অবস্থায় রাঙ্গুনিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত এসব ডেন্টাল চেম্বারের বৈধতা যাচাই এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত নজরদারি ও যাচাই-বাছাইয়ের দাবি উঠেছে।