নিজস্ব প্রতিনিধি : রাঙ্গুনিয়ায় চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে মামলা করার পর দলিল লেখক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে। এ মানববন্ধনকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে এর নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন শহীদুল্লাহ। তাঁর অভিযোগ, মামলা থেকে রেহাই পেতে এবং তাঁর সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি পক্ষ এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
আদালতে করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার নারিশ্চা এলাকায় পেশাগত কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর পথরোধ করা হয়। এ সময় তাঁর কাছে চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে ঘেরাও করে হামলা করা হয়। ১৫ দিনের মধ্যে চাঁদার টাকা না দিলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
শহীদুল্লাহ বলেন, ঘটনার পর তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় এবং হুমকি অব্যাহত থাকায় তিনি আদালতে মামলা করেন।
মামলার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শহীদুল্লাহ। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন ছাড়া অধিকাংশই পদুয়া, নাপিতপুকুরিয়া ও আশপাশের এলাকা থেকে আনা লোকজন। তাঁদের ভুল বুঝিয়ে বা অন্যভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ানো হয়েছে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক নারীর বক্তব্যেও এর প্রমাণ পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তিনি।
শহীদুল্লাহ বলেন, ‘হুমকি ও ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে নিজের এলাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছি না। নিরাপত্তার কারণে অন্যত্র থাকতে হচ্ছে।’
মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে রেজিস্টার্ড দলিল লেখক হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি উত্তর পদুয়া ছত্তারীয়া সেহাবিয়া সুন্নিয়া হেফজখানা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং দক্ষিণ শিলক তৈয়বীয়া নুরিয়া ছত্তারীয়া দাখিল মাদ্রাসা ও এতিমখানার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শহীদুল্লাহর অভিযোগ, স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং অন্যায় দাবিতে সাড়া না দেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।