বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পদুয়ায় কলাবাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃ”ত্যু রাঙ্গুনিয়ায় এক দিনে সাড়ে ৫ হাজার গাছের চারা রোপণ কাপ্তাই সড়কে প্রতিরাতেই ঝুঁকি নিয়ে চলে অতিরিক্ত উচ্চতার ট্রাক, ছিঁড়ল বিদ্যুতের তার তিন দশকের পাঠদান শেষে বিদায়, সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত অধ্যাপক মহসিন শাসনের নামে নির্যাতন, এ কেমন শিক্ষা? রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জসীমের মৃ’ত্যু মরিয়মনগরের ব্যস্ত সড়কে স্পিডব্রেকার, অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন রাজানগরে কাটা হচ্ছে পাহাড় আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধি কামনায় দেবীর আরাধনায় ভক্তরা আজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা: বর্ষাবাস শেষে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়

মশাল হতে প্রদীপে!

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১২২ বার পড়া হয়েছে

লেখকঃ এম.মোরশেদ আলম

শিক্ষক, সংগঠক ও বাচিক শিল্পী।

প্রতিদিনের মতন করে চিরচায়িত নিয়মের বেড়াজালে আবদ্দ জীবনের  হাত ধরে চলমান পথের চিত্র এক এবং অভিন্ন।কখনো মেঘ আর কখনোবা বৃষ্টিতে ভিজে নির্মিত গল্পগুচ্ছ বড়ই অদ্ভুদ। এই যেন একখণ্ড শুভ্র চক আর ডাস্টারের হালকা ধূলিকণার মন ভূলানো সাহিত্যের সম্ভার।

আজ কেন জানি শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে হুট করেই হাতটা কেমন যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। সামনে বসা নিষ্পাপ একঝাঁক কচি চোখের দিকে তাকাতেই মনে হলো এক চিলতে আয়নায় যেন আমি আমার অতীতকেই দেখতে পাচ্ছি।

আজ আমি শিক্ষক, কিন্তু আমার ভেতরের চিরন্তন ‘শিক্ষার্থী’ স্বত্তাটি আজও বিনীতভাবে দাঁড়িয়ে আছে সেইসব আলোকবর্তিকাধারীদের সামনে, যারা আমাকে আজকের আমি হিসেবে গড়ে তুলেছেন।প্রাণ সঞ্চার করেছেন ছোট ছোট পায়ে বেড়ে উঠা এই আমার আমিকে। শত ব্যস্ততার মাঝে চলা জীবনের দিকবিদিক মেনে অতিবাহিত করাটা যেখানে রীতিমতো অঘোষিত যুদ্ধের অন্যনাম।তারই ভিড়ে ফেলে আসা অমলিন স্মৃতটুকুন সামনে চলার সাহস যোগাতে নিয়ামক হিসেবে কাজ করে একথা অনস্বীকার্য।

স্মৃতির স্লেটে জীবনের প্রথম বর্ণমালা ফুটে উঠেছিল যার পরশে, তিনি আমার মা। পেন্সিল ধরার অনুপম ব্যাকুলতায় যখন হাত কাঁপত, তখন তাঁর পরম মমতার স্পর্শেই বর্ণমালার সাথে আমার প্রথম সখ্য। তিনি ছিলেন আমার জীবনের প্রথম শিক্ষক ভীতিহীন, সুরভিত এক প্রারম্ভ।আজও যা চলার পথে প্রাণবন্ততার খোরাকের যোগান দেয়।

এরপর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই কাঁচা মাটির গন্ধমাখা আঙিনা। ডাস্টারের ঝাড়নে ওড়া সাদা চকের গুঁড়োকে সেদিন মেঘের ধুলো মনে হতো। ছোট ছোট ভুলের দরুন থমকে দাঁড়ালে মোস্তফা স্যারের  সেই আশ্বাসবাণী আজও কানে বাজে।

“নদী যেমন হাজার আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়েও সাগরের পথ ভোলে না, সেই মন ভূলে করা ভুলগুলোও তেমনি সঠিক ঠিকানায় পৌঁছানোর প্রথম পদক্ষেপ এর নিয়ামক হিসেবে গড়ে দিয়েছে এই আমাকে।”

প্রাথমিকের শিক্ষকেরা যেন ছিলেন এক একটি জ্ঞান গরিমার জ্বলন্ত মশাল।যা ছিল আমি বা আমরা নামক ছোট্ট চারাগাছের জন্য দৃশ্যমান পুষ্টির উৎস।

যা মাটির গভীরে থেকে চারাগাছটিকে মহীরূহ হওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের চৌকাঠে পা রাখতেই পাঠ্যপুস্তকের আয়তন বাড়ল, সাথে বাড়ল জীবনের অমীমাংসিত সমীকরণ। গণিত ও ইংরেজি  স্যারের অমায়িক ধৈর্য কিংবা পদার্থবিজ্ঞানের স্যারের মহাবিশ্বের বিস্ময় প্রকাশের ভঙ্গি শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁরা জটিল সূত্রের আড়ালে জীবনের গভীর দর্শন শেখাতেন। শিখিয়েছিলেন কীভাবে ধৈর্যের সূক্ষ্ম সুতো দিয়ে জীবনের সবচেয়ে কঠিন গাঁটগুলো খুলে ফেলতে হয়। তাঁদের চক-বোর্ডের প্রতিটি আঁচড় আমার চিন্তার ক্যানভাসে এঁকে দিয়েছিল যুক্তির দীপ্তিময় পথ।

উচ্চশিক্ষার প্রাঙ্গণে এসে যখন ভাবনার জগৎ আরও বিস্তৃত হলো, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরা শেখালেন অনুশাসনের সাথে মুক্তচিন্তার মেলবন্ধন। শুধু তথ্য গেলা নয়, বরং জ্ঞানকে কীভাবে প্রজ্ঞায় রূপান্তরিত করে মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিতে হয়,সেই আলোর সন্ধান পেয়েছিলাম তাঁদের কাছেই।

আজ যখন আমি নিজে ডাস্টার হাতে এই মঞ্চে

এই কাঠের ডেস্কে দাঁড়িয়ে আছি, তখন অনুভব করি এই দায়িত্বের মহত্ব। আজ আমি অনুধাবন করি, শিক্ষকতা কোনো সাধারণ পেশা নয়,

এটি এক প্রদীপ থেকে অন্য  প্রদীপে আলো স্থানান্তরের এক চিরন্তন উৎসব। এই যেন নিজেকে জ্বেলে অন্যের মাঝে আলো জ্বালানোর মহৎকর্ম।  আমার শিক্ষকেরা আমার ভেতরে যে আলোর মশাল জ্বেলে দিয়েছিলেন, আমি কেবল তার একটি শিখা বহন করে পৌঁছে দিচ্ছি  প্রজন্ম থেকে  প্রজন্মান্তরে ।

আমার প্রথম শিক্ষক থেকে শুরু করে জীবনের শেষ গুরু পর্যন্ত সবার চরণে আজকের এই

মাহেন্দ্রক্ষণে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম। যাদের হাত ধরে শিখনের প্রারম্ভিকতা থেকে অদ্যবদি শিখে যাচ্ছি বহমান নদীর স্রোতের মতন করে তাঁদের অনেকের জীবন প্রদীপ নিভেছে সময়ের পরিক্রমায়। জীবনের পাওয়া আর না পাওয়ার শেষ বিন্ধুটাকে সিন্ধুতে পৌঁছে দেওয়ার মহানব্রত নিয়ে যে সকল মহান মানুষেরা পদ চিহ্ন রেখে গেছেন এই নশ্বর পৃথিবীতে তাঁদের  পদতলে ঠেকায় মাথা।

এখনো যারা স্রষ্টার কৃপাতে পৃথিবীতে বেছে আছেন আজকের দিনে বিধাতার কাছে পরম চাওয়া দীর্ঘ আয়ু দান করুন মহান আল্লাহপাক সকল মহান স্যারদের।

আমার সকল প্রিয় শিক্ষকদের  জ্বালানো সেই শিখাই আমার আজকের পথচলার একমাত্র ধ্রুবতারা হয়ে হাতছানি দেই আগামীর সফলতার পানে। বিশ্বধরারায় প্রতিষ্ঠিত হোক সকল শিক্ষাগুরুর মর্যাদা।

শুভ শিক্ষক দিবস!”

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews