আব্বাস হোসাইন আফতাব:
মায়ের অসুস্থতা তাঁকে মানসিক ও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল। সেই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজন। মায়ের সুস্থতা ফিরে পাওয়ার পর সেই সহযোগিতার মূল্য নতুন করে উপলব্ধি করেন আলভী জিগার। ভাবতে শুরু করেন, আর্থিক সংকটে থাকা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা। সেই ভাবনা থেকেই প্রতিষ্ঠা করেন রাঙ্গুনিয়া মানবসেবা ফাউন্ডেশন। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বুধাগাজী পাড়ার বাসিন্দা আলভী জিগার। সমাজসেবক ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত তিনি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এক বছরের পথচলায় সংগঠনটি শতাধিক মানবিক কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আলভী জিগার জানান, প্রায় এক বছর আগে তাঁর মায়ের কিডনির গুরুতর সমস্যা ধরা পড়ে। মায়ের অসুস্থতা নিয়ে দুশ্চিন্তার পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। সে সময় বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাঁদের সহায়তায় মায়ের সুস্থতা ফিরে পাওয়ার পর অসহায় মানুষের জন্য কিছু করার চিন্তা মাথায় আসে তাঁর।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আলভী উপলব্ধি করেন, একটি পরিবারে কেউ অসুস্থ হলে কিংবা আর্থিক সংকটে পড়লে সেই পরিবারের সদস্যদের কতটা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তাই রাঙ্গুনিয়ার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে গড়ে তোলেন মানবিক সংগঠনটি।
সংগঠনটির কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক সহায়তা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতা ও সেবাদান এবং সমাজ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। স্থানীয়ভাবে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা করছেন সংগঠনের সদস্যরা।
এক বছরের কার্যক্রম শেষে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে রাঙ্গুনিয়া মানবসেবা ফাউন্ডেশন। এ সময়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা করছেন সংগঠনের উদ্যোক্তারা।
মায়ের অসুস্থতার সময় অন্যের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতাই আলভী জিগারকে মানবসেবায় উদ্বুদ্ধ করেছে। ব্যক্তিগত জীবনের সেই কঠিন অভিজ্ঞতা থেকে শুরু হওয়া উদ্যোগটি এখন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি সাংগঠনিক প্রচেষ্টা।