বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পদুয়ায় কলাবাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃ”ত্যু রাঙ্গুনিয়ায় এক দিনে সাড়ে ৫ হাজার গাছের চারা রোপণ কাপ্তাই সড়কে প্রতিরাতেই ঝুঁকি নিয়ে চলে অতিরিক্ত উচ্চতার ট্রাক, ছিঁড়ল বিদ্যুতের তার তিন দশকের পাঠদান শেষে বিদায়, সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত অধ্যাপক মহসিন শাসনের নামে নির্যাতন, এ কেমন শিক্ষা? রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জসীমের মৃ’ত্যু মরিয়মনগরের ব্যস্ত সড়কে স্পিডব্রেকার, অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন রাজানগরে কাটা হচ্ছে পাহাড় আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধি কামনায় দেবীর আরাধনায় ভক্তরা আজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা: বর্ষাবাস শেষে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়

শিকড়ের টানে প্রাণের বিদ্যালয়ে মিলনমেলা

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০৮ বার পড়া হয়েছে

আব্বাস হোসাইন আফতাব :
একটি বিদ্যালয়, হাজারো স্মৃতি। কোথাও ফেলে আসা কৈশোর, কোথাও বন্ধুত্বের গল্প, আবার কোথাও প্রিয় শিক্ষকের স্নেহমাখা শাসন। সময়ের ব্যবধানে জীবনের পথ বদলে যায়, বদলে যায় পরিচিত মুখগুলোর চেহারা। তবু শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত বিদ্যালয়টি থেকে যায় হৃদয়ের গভীরে। সেই টানেই দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে হলেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। পুরোনো দিনের গল্প, স্মৃতিচারণ আর আনন্দ-আড্ডায় মুখর হয়ে উঠল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিনব্যাপি রাঙ্গুনিয়ায় বেগম ইকবাল জাকির হোসাইন (বিআইজেডএইচ) বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম পুনর্মিলনী-২০২৬। ‘শিকড়ের টানে, প্রাণের বন্ধনে’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই মিলনমেলায় অংশ নেন বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শুভানুধ্যায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। দীর্ঘদিন পর প্রিয় বিদ্যালয়ে ফিরে কেউ খুঁজেছেন পুরোনো সহপাঠীকে, কেউ স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসেছেন, আবার কেউ ফিরে দেখেছেন জীবনের ফেলে আসা সোনালি দিনগুলো।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন বেগম ইকবাল জাকির হোসাইন গার্লস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুনর্মিলনী হয়ে ওঠে প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের মেলবন্ধনের এক বিশেষ উপলক্ষ।
বিদ্যালয়জীবন মানুষের জীবনের এমন এক অধ্যায়, যার স্মৃতি সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয়, কিন্তু মলিন হয় না। শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ, বিদ্যালয়ের মাঠ, টিফিনের বিরতি, সহপাঠীদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা আর শিক্ষকদের স্নেহ-শাসন, সবকিছু মিলিয়েই তৈরি হয় সেই স্মৃতির জগৎ।
জীবনের প্রয়োজনে একসময় সবাই ছড়িয়ে পড়েন নানা পেশায়, নানা ঠিকানায়। কারও সঙ্গে যোগাযোগ থাকে, কারও সঙ্গে দীর্ঘদিন দেখা হয় না। কিন্তু পুনর্মিলনীর মতো আয়োজন পুরোনো সম্পর্কগুলোকে আবারও কাছে নিয়ে আসে। পরিচিত মুখের সঙ্গে দেখা হলে ফিরে আসে ফেলে আসা দিনের গল্প। বয়সের ব্যবধান কিংবা দীর্ঘ বিচ্ছেদের দূরত্ব যেন তখন আর বড় হয়ে দেখা দেয় না।
এই পুনর্মিলনীতে ১৯৭৯ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী পারভিন মালেকসহ অনেকেই দীর্ঘ সময় পর বিদ্যালয়ের আঙিনায় ফিরে আসেন। পারভিন মালেক ৪৬ বছর পর প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পা রাখেন। দীর্ঘ সময় পর পরিচিত আঙিনায় ফিরে তাঁর এই উপস্থিতি যেন শিকড়ের টানকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। জীবনের নানা ব্যস্ততা পেরিয়ে প্রিয় বিদ্যালয়ে ফিরে আসা শুধু পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন নয়, বরং নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে আবারও সংযোগ স্থাপন।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এ কে এস খান হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামানজার শামা খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্লিপটন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এম মহিউদ্দীন চৌধুরী, চট্টগ্রামের শেভরন আই হসপিটালের গ্লুকোমা বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন এম এ করিম এবং বেগম ইকবাল জাকির হোসেন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল গফুর।
অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন ড্রাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুতুন নেছা। বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ছরোয়ার ছালেক সিকদার এবং বিআইজেডএইচ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন কান্তি শীল।
বিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অঞ্জনা রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষানুরাগী শুভ্রা দাশ উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নুরুল হক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী শামসুজ্জাহান ইসলাম।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন মোস্তফা খাতুন সালেহ্, দৌলাতুন নেছা, ফরিদা বেগম, জয়শ্রী চৌধুরী রেবা ও রত্না রানী রাহা। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অঞ্জনা রায় চৌধুরী, সচিব ভিক্টোরিয়া বড়ুয়া ও অর্থসচিব শারমিন আকতার বক্তব্য দেন।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেয় না, তাদের চিন্তা, মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্ব গঠনের ভিতও তৈরি করে। সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক তাই সনদ অর্জনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় না। বরং জীবনের নানা বাঁকে পুরোনো বিদ্যালয় হয়ে ওঠে স্মৃতি, ভালোবাসা ও আত্মপরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সেই সম্পর্ককে নতুন করে দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে পুরোনো দিনের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার পথ খুলে দেয়।
বেগম ইকবাল জাকির হোসাইন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রথম পুনর্মিলনী তাই কেবল আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজন নয়। এটি অতীত ও বর্তমানের সেতুবন্ধ, পুরোনো বন্ধুত্বের নবায়ন এবং প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসার সম্মিলিত প্রকাশ।
পারভিন মালেকের ৪৬ বছর পর বিদ্যালয়ে ফিরে আসার ঘটনা এই আয়োজনের আবেগকে আরও অর্থবহ করে তোলে। জীবনের ব্যস্ততায় মানুষ হয়তো বহু দূরে চলে যায়। কিন্তু কিছু স্মৃতি, কিছু সম্পর্ক আর কিছু প্রিয় জায়গা কখনো হারিয়ে যায় না। সময়ের ব্যবধান পেরিয়ে সেই জায়গায় ফিরে এলে মনে হয়, ফেলে আসা দিনগুলো এখনো অপেক্ষায় আছে। রাঙ্গুনিয়ার এই পুনর্মিলনী যেন সেই চিরন্তন সত্যেরই আরেকটি প্রকাশ, শিকড়ের টান কখনো ফুরায় না।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews