সৌরভ সাহা :
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে বাবার প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও জমে থাকা অভিমান প্রকাশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়ার সামাজিক সংগঠন ‘মা ভবানী একতা সংঘ’। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘শ্রীচরণেষু বাবা’।
ঐতিহ্যের ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে সংগঠনটির এ উদ্যোগে পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীরা বাবাকে নিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারবেন খোলা চিঠির মাধ্যমে। শৈশবের স্মৃতি, বাবার ত্যাগ, শাসনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা কিংবা দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিমান, সবই উঠে আসতে পারে এসব চিঠিতে।
আয়োজকদের ভাবনায়, পরিবারের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করা বাবার প্রতি ভালোবাসা অনেক সময় মুখে প্রকাশ করা হয় না। সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে গিয়ে নিজের ইচ্ছা ও স্বপ্ন বিসর্জন দেওয়া বাবার অবদানও অনেক সময় অজানাই থেকে যায়। সেই না-বলা কথাগুলো প্রকাশের সুযোগ করে দিতেই এ উদ্যোগ।
আয়োজনের অংশ হিসেবে দর্শনার্থীরা নিজেদের লেখা চিঠি নাম ও মোবাইল নম্বরসহ পূজামণ্ডপে রাখা নির্ধারিত বাক্সে জমা দিতে পারবেন। বাবার সঙ্গে কাটানো স্মৃতি, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা কিংবা কোনো অভিমান চিঠির ভাষায় তুলে ধরতে পারবেন তাঁরা। যাঁদের বাবা বেঁচে নেই, তাঁরাও বাবাকে ঘিরে স্মৃতিচারণের মাধ্যমে মনের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
আয়োজকেরা জানান, বিজয়া দশমীর দিন জমা পড়া চিঠিগুলোর মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে তিনজনকে বিজয়ী নির্বাচন করে পুরস্কৃত করা হবে। পাশাপাশি সেরা চিঠিটি লেখকের নাম ও ছবিসহ প্রকাশ করা হবে ‘পাক্ষিক চলমান রাঙ্গুনিয়া’র অনলাইন ও মুদ্রিত সংস্করণে।
আয়োজনটি শুধু পূজার আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করা এবং বাবা-সন্তানের সম্পর্কের গভীরতা উপলব্ধি করার একটি মানবিক প্রয়াস। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ ও সম্পর্কের দূরত্ব কমানোর বার্তাও ছড়িয়ে দিতে চায় সংগঠনটি।
‘শ্রীচরণেষু বাবা’ প্রতিপাদ্যের মধ্য দিয়ে আয়োজকেরা মনে করছেন, একটি চিঠিই হয়তো প্রকাশ করতে পারে বহুদিনের না-বলা কথা, কমাতে পারে অভিমানের দূরত্ব এবং ফিরিয়ে আনতে পারে বাবা-সন্তানের হারিয়ে যাওয়া ঘনিষ্ঠতা।