রাঙ্গুনিয়ায় বন্ধ ইস্টার্ন কেমিক্যাল লিমিটেডের প্রায় ১০ একর জমিতে লাভজনক শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা যাচাই করছে সরকার। এ ছাড়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পুনর্গঠন, গণকবর ও বধ্যভূমি সংরক্ষণ এবং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।
সম্প্রতি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান ও প্রতিমন্ত্রী মো. ইশরাক হোসেন। বন্ধ ইস্টার্ন কেমিক্যাল লিমিটেডের জমি পরিদর্শনে তাঁরা রাঙ্গুনিয়ায় আসেন। এ সময় তাঁদের সাক্ষাৎকার নেন রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার।
সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্পদ সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে। রাঙ্গুনিয়ায় মন্ত্রণালয়ের তিনটি স্থানে সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ইস্টার্ন কেমিক্যাল লিমিটেডের প্রায় ১০ একর জমি পরিদর্শন করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘এই জমিতে লাভজনক কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাষ্ট্রের আয় বাড়ানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।’
জমিটির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, এক পাশে কর্ণফুলী নদী, অন্য পাশে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক। পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে জায়গাটি অত্যন্ত সুন্দর ও সম্ভাবনাময়।
রাঙ্গুনিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকর আদায় করা হলেও বর্তমানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানা চালু থাকাকালে শিল্পকর ধার্য করার প্রয়োজন ছিল। বর্তমানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান না থাকলে কর বাতিল করা যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
রাঙ্গুনিয়ায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা আগে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন থাকলেও বর্তমানে ২৮০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তের বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকেরা।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী মো. ইশরাক হোসেন বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পুনর্গঠন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামে গিয়ে প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আলোচনা করে যাচাই-বাছাই করতে হবে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করা হবে এবং যাচাইয়ে অযোগ্য প্রমাণিত ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত ব্যক্তিদের স্মৃতিবিজড়িত রাঙ্গুনিয়ার পোমরার গণকবর ও চন্দ্রঘোনার বধ্যভূমি সংরক্ষণে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ও শহীদদের কবর সংরক্ষণে বর্তমান সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, গণকবরগুলো শনাক্ত করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। জাতীয় দিবসগুলোতে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি স্থানগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।
রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিলের ধান উৎপাদন এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাকসবজি চট্টগ্রাম শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের বিষয়টি তুলে ধরে কৃষিপণ্য সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপনের পরিকল্পনা জানতে চান সাংবাদিকেরা।
জবাবে মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, কৃষকেরা যাতে তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। প্রত্যেক উপজেলায় হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্থাপনা করা গেলে কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ করে উপযুক্ত সময়ে বিক্রির সুযোগ পাবেন।
এ সময় রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা একজন ভালো ও যোগ্য মানুষকে সংসদ সদস্য নির্বাচন করেছেন।’
সফরকালে আতিথেয়তার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানান দুই মন্ত্রী। রাঙ্গুনিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করে তাঁরা ভবিষ্যতে সুযোগ হলে আবারও এ উপজেলায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন।