নিজস্ব প্রতিবেদক
কাল শুক্রবার রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রাক্তন পরীক্ষক, গ্রন্থকার, সমাজসেবক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ গৌরাঙ্গ বিজয় রায় চৌধুরীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।
এ উপলক্ষে প্রয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে নানা ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে রাঙ্গুনিয়ার সৈয়দবাড়িতে প্রয়াতের নিজ বাড়ি ‘নীলাচল’ সংলগ্ন সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, রাউজান উত্তর গুজরা ঠাকুরবাড়ির শ্রীশ্রী অন্নদা ঠাকুর আদ্যাপীঠ রামকৃষ্ণ সংঘে ঠাকুর ভোগ এবং দুপুরে অনাথ শিশু-কিশোরদের মাঝে অন্নদান।
শিক্ষাবিদ গৌরাঙ্গ বিজয় রায় চৌধুরী শিক্ষকতার মাধ্যমে একটি আলোকিত সমাজ গঠনে জীবনভর কাজ করে গেছেন। তাঁর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করে শত শত শিক্ষার্থী আজ দেশজুড়ে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছিলেন একজন সৎ, কর্তব্যনিষ্ঠ ও আদর্শবান গুণী শিক্ষক। মা-বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর চার কন্যা ও এক ছেলেও শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।
গৌরাঙ্গ বিজয় রায় চৌধুরী কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। স্বচ্ছতা ও নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে অতি সাধারণ জীবনযাপন করেছেন তিনি। শিক্ষকতা ছিল তাঁর একই সঙ্গে পেশা ও নেশা। শ্রেণিকক্ষে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে কেবল শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন একজন আদর্শ অভিভাবক, ন্যায়পরায়ণ ও আলোকিত মানুষ। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা তথা পুরো চট্টগ্রাম জেলায় তিনি ছিলেন এক স্বনামধন্য শিক্ষক এবং স্বপ্নের বাতিঘর।
মৃত্যুর ২৫ বছর পরও তিনি সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতি বছর তাঁর প্রয়াণ দিবসে নানা স্মরণসভার আয়োজন করে।
প্রয়াতের একমাত্র ছেলে, রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রধান এবং বাংলাদেশ সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ (বাসকশিপ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অধ্যাপক বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী প্রয়াত বাবার আত্মার সদগতি কামনায় সকল আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে প্রার্থনা ও উপস্থিতির আহ্বান জানিয়েছেন।