আব্বাস হোসাইন আফতাব :
কাজের ব্যস্ততা, জীবনের নানা সমীকরণ আর ধূসর সময়ের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় শৈশব-কৈশোরের সোনালী দিনগুলো। কিন্তু চেনা প্রাঙ্গণের মাটির টান আর বন্ধুদের ডাক যেন এক নিমেষেই মুছে দেয় দীর্ঘদিনের দূরত্ব। সেই চিরচেনা টানেই রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৭ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ফিরে এসেছিলেন তাঁদের প্রিয় বিদ্যাপীঠে।
স্মৃতিচারণ, শৈশবের আবেগ, হাসিমুখের আড্ডা আর পুরোনো বন্ধুদের সান্নিধ্যে দুই দিনব্যাপী এক উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৯৭ ব্যাচের বহুল কাঙ্ক্ষিত পুনর্মিলনী উৎসব।
আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক চমৎকার ও আবেগঘন স্মৃতিচারণ সভা। যেখানে একমঞ্চে হাজির হয়েছিলেন প্রিয় শিক্ষক ও নব্বই দশকের সেই সহপাঠীরা।
বহু বছর পর প্রিয় স্যারদের পা ছুঁয়ে সালাম করা, শিক্ষকদের স্নেহের পরশ আর পুরোনো ক্লাসরুমের স্মৃতি রোন্থন পুরো হলরুমে তৈরি করে এক ভিন্ন আবহ। সভায় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। বক্তব্য দেন
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রফিক আহমদ, নুর মোহাম্মদ, বিনয় শেখর সাহা, অমলেন্দু ধর, মানস কুমার সাহা, বিজয় পণ্ডিত ও রঞ্জিত চক্রবর্তী।
বর্তমান শিক্ষকদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক এম মিজানুর রহমান, শিক্ষক হারুনুর রশীদ, আবু সায়েম ও রহিম উদ্দিন সিকদার। আরো বক্তব্য দেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ সদস্য সাংবাদিক আব্বাস হোসাইন আফতাব।
শিক্ষকরা তাঁদের প্রাক্তন ছাত্রদের বর্তমান সাফল্য দেখে গর্বপ্রকাশ করেন এবং এই ভালোবাসার বন্ধন যেন আজীবন অটুট থাকে সেই দোয়া প্রদান করেন।
স্মৃতিচারণ ও আন্তরিক মধ্যাহ্নভোজের পর বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হয় এক বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি। র্যালিতে ১৯৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হাতে হাত ধরে, স্মৃতি বিজড়িত ব্যানার নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন।
কৈশোরের সেই দিনগুলোর মতো বন্ধুদের জড়িয়ে ধরা, পাশাপাশি হেঁটে গল্প করা আর ছবি তোলার ধুম দেখে মনে হচ্ছিল, জীবনের ঘড়িটা যেন কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়িয়েছে ১৯৯৭ সালেই ! শৈশব ও কৈশোরের সোনালী স্মৃতিতে হারিয়ে গিয়ে দিনভর এক অন্যরকম উচ্ছ্বাসে ভেসেছেন সবাই।
কেবল স্মৃতির পাতায় ঘুরে বেড়ানোই নয়, প্রিয় বিদ্যাপীঠের বর্তমান ছোট ভাই-বোনদের জন্য এক চমৎকার ভালোবাসার নিদর্শনও রেখে গেছেন ৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। ব্যাচের শিক্ষার্থী কাউসার হোসাইন এবং ইঞ্জিনিয়ার রমজান আলীর সুনিপুণ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছে একটি আধুনিক সুপেয় পানির (ওয়াটার) প্ল্যান্ট।
দুই দিনব্যাপী আয়োজনের প্রথম দিনে প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রিয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার এমন প্রয়াস অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
শিকড়ের টানে এক হওয়া ১৯৯৭ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই আনন্দঘন মিলনমেলা ও সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগ রাঙ্গুনিয়ার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিদায়ের ক্ষণে বন্ধুদের একটাই প্রতিশ্রুতি ছিল, দেখা হবে বারবার, অটুট থাকবে এই বন্ধন।