আব্বাস হোসাইন আফতাব :
ছয় বছর বয়স থেকেই গানের প্রতি টান। সেই টান থেকেই গানের চর্চা, আর চর্চা থেকে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য। ছোট্ট বয়সেই সংগীতের চারটি বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার অর্জন করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে অপ্সরী বড়ুয়া ফ্লোরা। বড় হয়ে একজন উচ্চমাপের সংগীতশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন তার। মা-বাবার সংগীতময় পরিবেশে বেড়ে ওঠা ফ্লোরার এমন সাফল্যে গর্বিত পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীরা।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দবাড়ি এলাকার মেয়ে ফ্লোরা। সে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। তার মা ফুলকি বড়ুয়া সংগীতশিল্পী, বাবা রানা বড়ুয়া তবলা বাদক। মা-বাবার হাত ধরেই সংগীতের জগতে তার পথচলা শুরু। তবে গানের প্রতি আগ্রহটা নিজেরই। পড়ালেখার পাশাপাশি নিয়মিত সংগীতচর্চা করে সে।
ফ্লোরার সাফল্যের ঝুলিতে রয়েছে জাতীয় পর্যায়ের একাধিক অর্জন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ২০২২ ও ২০২৩ সালে রবীন্দ্রসংগীতে ‘ক’ বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করে সে। এ ছাড়া জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় নজরুলসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ফ্লোরা।চট্টগ্রামের সংগীতশিল্পী সন্ধানে সব চাইতে বড় আসর “চট্টগ্রাম যন্ত্র শিল্পী সংস্থার আয়োজনে প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে। বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি যুব এর আয়োজনে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়বার স্বর্ন গদক পেয়েছে ফ্লোরা। সর্বশেষ নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সাংষ্কৃতিক প্রতিযোগিতায় নজরুল সংগীতে তৃতীয় হয় সে। সংগীতের ভিন্ন ভিন্ন ধারায় এমন সাফল্য তার প্রতিভা ও আগ্রহের পরিচয় তুলে ধরেছে।
ফ্লোরার মা ফুলকি বড়ুয়া বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত সংগীতশিল্পী। মেয়ের গানের প্রতি ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ছয় বছর বয়স থেকেই ফ্লোরার গানের প্রতি প্রবল আগ্রহ। পড়ালেখার পাশাপাশি গান চর্চার জন্য তাকে আলাদা করে বলতে হয় না। নিজের আগ্রহেই সে নিয়মিত গান শেখে ও চর্চা করে। মেয়ের এই আগ্রহ ও সাফল্যে আনন্দিত মা-বাবা। তাদের প্রত্যাশা, একদিন সংগীতের জগতে নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হবে ফ্লোরা।
ফ্লোরার স্বপ্নও স্পষ্ট। বড় হয়ে একজন ভালো মানের সংগীতশিল্পী হতে চায় সে। গানের প্রতি ভালোবাসাকে সঙ্গী করে আরও এগিয়ে যেতে চায়। জাতীয় পর্যায়ের অর্জন তাকে সেই স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাচ্ছে। সংগীতের চর্চার পাশাপাশি পড়ালেখাতেও মনোযোগী থাকতে চায় সে।
ফ্লোরার সাফল্যে আনন্দিত তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীরাও। রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবু সায়েম বলেন, জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার অর্জন করে ফ্লোরা বিদ্যালয় ও রাঙ্গুনিয়ার মুখ উজ্জ্বল করেছে। তার এই সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করবে। ফ্লোরা ভবিষ্যতে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে, এটাই তাদের প্রত্যাশা।
শৈশবের আগ্রহ থেকে শুরু হওয়া ফ্লোরার সংগীতযাত্রা এখন স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলেছে। মায়ের কাছে গান শেখা ছাড়াও সংগীত শিল্পী রাজেশ সাহার কাছে সে বর্তমানে তালিম নিচ্ছে।মা-বাবার অনুপ্রেরণা, শিক্ষকদের উৎসাহ আর নিজের সাধনাকে সঙ্গী করে সে এগিয়ে যেতে চায় বহুদূর। রাঙ্গুনিয়ার সৈয়দবাড়ির এই কিশোরীর চোখে এখন বড় শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন। গানের সুরে সেই স্বপ্ন একদিন আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে, এমন প্রত্যাশা তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।