আব্বাস হোসাইন আফতাব :
বন্ধুত্বের বন্ধন সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয়, কিন্তু প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসা যেন আরও গভীর হয়। যে বিদ্যালয়ের আঙিনায় কেটেছে শৈশব-কৈশোরের সোনালি দিন, যে শ্রেণিকক্ষে বসে তৈরি হয়েছে জীবনের প্রথম স্বপ্ন, সেই বিদ্যালয়ের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই একসঙ্গে হয়েছেন রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯৪ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের মাঠের উত্তর পাশে নির্মিত হবে একটি প্রবেশগেট।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের জামালখানের একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাধারণ সভা। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, স্মৃতিচারণা আর প্রিয় বিদ্যালয়ের প্রতি দায়বদ্ধতার আবহে অনুষ্ঠিত এ সভায় নেওয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাচের কৃতি শিক্ষার্থী নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. দিদারুল আলম। আলোচনার একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখার প্রসঙ্গ উঠে আসে। পরে সর্বসম্মতিক্রমে বিদ্যালয়ের মাঠের উত্তর পাশ দিয়ে প্রবেশের গেটটি ১৯৯৪ ব্যাচের পক্ষ থেকে নির্মাণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে স্থাপত্য পরিকল্পনার বিষয়টিও। সভায় ১৯৯৪ ব্যাচের আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ১৯৯৩ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী স্থপতি বিজয় শংকর তালুকদার। প্রস্তাবিত প্রবেশগেটের নকশা নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেন ব্যাচের সদস্যরা।
একটি প্রবেশগেট নির্মাণের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে যেন নতুন করে সামনে এসেছে বিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আত্মিক সম্পর্ক। শিক্ষাজীবন শেষ করে বহু বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়ের প্রতি তাঁদের টান যে কমেনি, এ উদ্যোগ তারই প্রতিফলন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ১৯৯৪ ব্যাচের সৈকত, টিপলু, ইমাম, ফজলু, মোরশেদ, তানভীর, নাহিদ, ইরান, রানা, পলাশ ও রাজীব। অতিথি হিসেবে যোগ দেন মরিয়মনগর স্কুলের ১৯৯৪ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আনোয়ার।
আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে আড্ডা আর আনন্দে মেতে ওঠেন বন্ধুরা। বিশেষ মুহূর্ত হয়ে ওঠে সবার প্রিয় বন্ধু ডা. দিদারুল আলমের জন্মদিন উদ্যাপন। পুরোনো বন্ধুত্বের উষ্ণতা আর প্রিয় বিদ্যালয়ের জন্য কিছু করার প্রত্যয়ে শেষ হয় আয়োজনটি।
বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে নতুন গেটটি নির্মিত হলে তা শুধু যাতায়াতের পথ হিসেবেই ব্যবহৃত হবে না, হয়ে উঠবে একটি ব্যাচের স্মৃতি, বন্ধুত্ব ও শিকড়ের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক।