বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পদুয়ায় কলাবাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃ”ত্যু রাঙ্গুনিয়ায় এক দিনে সাড়ে ৫ হাজার গাছের চারা রোপণ কাপ্তাই সড়কে প্রতিরাতেই ঝুঁকি নিয়ে চলে অতিরিক্ত উচ্চতার ট্রাক, ছিঁড়ল বিদ্যুতের তার তিন দশকের পাঠদান শেষে বিদায়, সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত অধ্যাপক মহসিন শাসনের নামে নির্যাতন, এ কেমন শিক্ষা? রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জসীমের মৃ’ত্যু মরিয়মনগরের ব্যস্ত সড়কে স্পিডব্রেকার, অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন রাজানগরে কাটা হচ্ছে পাহাড় আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধি কামনায় দেবীর আরাধনায় ভক্তরা আজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা: বর্ষাবাস শেষে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়

আজ মহালয়া: শুরু দেবীপক্ষ, দুর্গোৎসবের অপেক্ষায় সনাতন সম্প্রদায়

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতি‌বেদক: সৌরভ সাহা-  আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে শুরু হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা। প্রয়াত পিতৃপুরুষদের স্মরণ, তর্পণ ও ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় মুখর হয়ে উঠেছে সনাতন সম্প্রদায়ের হৃদয়। মহালয়াকে ঘিরে দুর্গোৎসবের আনন্দ ও উৎসাহ ছড়িয়ে পড়ছে ভক্তদের মাঝে।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতিতে মহালয়া একটি তাৎপর্যপূর্ণ তিথি। পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের সূচনাকে কেন্দ্র করে দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মহালয়ার ভোরে চণ্ডীপাঠ, দেবী দুর্গার স্তোত্র ও আগমনী সংগীতের মধ্য দিয়ে দেবীকে আবাহন করা হয়। বেতার, টেলিভিশন ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত মহালয়ার অনুষ্ঠানও বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মহালয়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেবী দুর্গার আবির্ভাব এবং অসুররাজ মহিষাসুর বধের পৌরাণিক কাহিনি। মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্গত ‘দেবীমাহাত্ম্যম্’ বা ‘চণ্ডী’ অনুসারে, মহিষাসুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ দেবতারা সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমে দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটান। পরে দেবী মহিষাসুরকে বধ করে দেবলোক ও সৃষ্টিজগতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
এই পৌরাণিক কাহিনি শুভ শক্তির বিজয় এবং অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। অন্যায়, অশান্তি ও অশুভ শক্তির বিনাশের প্রত্যাশায় দেবীর আরাধনায় মগ্ন হন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
মহালয়ার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষঙ্গ হলো তর্পণ। সনাতন ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী, এদিন অনেকেই নদী, পুকুর কিংবা অন্যান্য জলাশয়ে গিয়ে প্রয়াত পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশের মধ্য দিয়ে পালিত হয় এই ধর্মীয় আচার। মহালয়া তাই শুধু দেবীপক্ষের সূচনাই নয়, বরং পারিবারিক ঐতিহ্য ও পূর্বপুরুষের স্মৃতির সঙ্গে নতুন করে সংযোগ স্থাপনেরও একটি বিশেষ দিন।
মহালয়ার সঙ্গে শ্রী রামচন্দ্রের অকালবোধনের কাহিনিও বিশেষভাবে সম্পৃক্ত। প্রচলিত পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী, রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয় লাভের উদ্দেশ্যে শরৎকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন শ্রী রামচন্দ্র। প্রচলিত সময়ের বাইরে দেবীর এই আরাধনা ‘অকালবোধন’ নামে পরিচিত।
এই কাহিনি শারদীয় দুর্গোৎসবের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রত্যাশা প্রকাশ পায়।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলাতেও মহালয়াকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ঘিরে ভক্ত ও আয়োজকদের মধ্যে বাড়ছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। পূজার দিনগুলোতে মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।
শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের দোলা, শিউলির সুবাস আর চণ্ডীপাঠের সুরে মহালয়া নিয়ে আসে নতুন আশার বার্তা। দেবী দুর্গার আগমনী আবাহনে ভক্তদের প্রার্থনা—পৃথিবী থেকে দূর হোক অশুভ শক্তি, প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণ।
মহালয়া তাই কেবল একটি ধর্মীয় তিথি নয়; এটি পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, দেবী দুর্গাকে স্বাগত জানানো এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় এক অনন্য আবেগ ও বিশ্বাসের দিন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews