নিজেদের স্কুল নিজেরাই পরিষ্কার করল তারা। উদ্দেশ্য শুধু বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে পরিচ্ছন্ন করা নয়, নিজেদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও পরিবেশ সচেতনতার অভ্যাস গড়ে তোলা।
পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিডি ক্লিন রাঙ্গুনিয়ার উদ্যোগে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ কর্মসূচির। এতে বিডি ক্লিন রাঙ্গুনিয়া টিমের ২০ জন সদস্যের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা চারটি দলে বিভক্ত হয়ে অংশ নেয়।
কর্মসূচির শুরুটা হয় বিদ্যালয়ের প্রাত্যহিক সমাবেশে। পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার সংবলিত শপথ পাঠ করে শিক্ষার্থীরা। শপথবাক্য পাঠ করান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম. মিজানুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক প্রতিনিধি আব্বাস হোসাইন আফতাব।
শপথ শেষে শিক্ষার্থীরা চারটি দলে ভাগ হয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলে এ অভিযান।
মাত্র আধা ঘণ্টার এ কর্মসূচি ছিল না কেবল ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের আয়োজন। এর ভেতরে ছিল একটি বড় শিক্ষা, নিজের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিজেরও।
শিক্ষার্থীরা যখন নিজের হাতে বিদ্যালয়ের ময়লা পরিষ্কার করে, তখন পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি তাদের কাছে শুধু কোনো প্রচারণার কথা থাকে না। বরং কাজের মধ্য দিয়ে তারা উপলব্ধি করে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করতে প্রত্যেককেই ভূমিকা রাখতে হয়।
একটি বিদ্যালয় শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনের জায়গা নয়। এখান থেকেই শিক্ষার্থীরা শিখে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও নাগরিক মূল্যবোধ। তাই পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসও শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা।
একজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যে অভ্যাস গড়ে তোলে, তার প্রভাব পড়ে পরিবার ও সমাজেও। স্কুলের আঙিনা পরিষ্কার রাখার অভ্যাস একদিন তাকে নিজের ঘর, পাড়া-মহল্লা কিংবা কর্মক্ষেত্রও পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে সচেতন করে তুলতে পারে।
এই ভাবনা থেকেই শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বিডি ক্লিন। তারই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো এ কর্মসূচি।
বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রথম এ ধরনের কার্যক্রম আয়োজনের জন্য বিডি ক্লিন রাঙ্গুনিয়া টিমের সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান প্রধান শিক্ষক এম. মিজানুর রহমান।
দিনের কর্মসূচি শেষ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আবার ফিরে গেছে শ্রেণিকক্ষে। কিন্তু হাতে ঝাড়ু নিয়ে নিজেদের বিদ্যালয় পরিষ্কার করার অভিজ্ঞতাটি হয়তো তাদের মনে থেকে যাবে অনেক দিন।
কারণ পরিচ্ছন্নতা শুধু ময়লা সরিয়ে ফেলার বিষয় নয়। এটি একটি অভ্যাস, একটি মূল্যবোধ। আর সেই অভ্যাস যদি স্কুল থেকেই তৈরি হয়, তাহলে তার সুফল ছড়িয়ে পড়তে পারে পরিবার থেকে সমাজে।
নিজেদের স্কুল নিজেরাই পরিষ্কার করেছে শিক্ষার্থীরা হয়তো ছোট্ট একটি উদ্যোগ। কিন্তু এখান থেকেই শুরু হতে পারে বড় কোনো পরিবর্তন।