আব্বাস হোসাইন আফতাব :
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণজুড়ে সাজানো নানা বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প। কোথাও পানির তিন অবস্থা ও পানিচক্র, কোথাও সোলার প্যানেল ও সোলার হাউস। আবার কোথাও গ্রিনহাউস প্রভাব, বৈশ্বিক উষ্ণতা, চাঁদের বিভিন্ন দশা ও খাদ্যজাল। এমন নানা প্রদর্শনীতে মুখর হয়ে উঠেছিল রাঙ্গুনিয়ার মধ্য নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
‘জানবো, শিখবো, গড়বো সুন্দর ভবিষ্যৎ’ ও ‘বিজ্ঞানের আলোয় গড়ি স্মার্ট বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়।
মেলায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রায় ৩৫টি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনীগুলো পরিবেশ সংরক্ষণ, ভৌত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, শোকেসিং ও বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ এই পাঁচটি কর্ণারে সাজানো হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, বেলুন, ফেস্টুন ও শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে সাজানো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। নিজেদের তৈরি প্রকল্প নিয়ে দর্শনার্থীদের সামনে ব্যাখ্যা দিচ্ছে ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা দেখতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও উপস্থিত হন।
মেলায় নিরাপদ ও অনিরাপদ পানি, পানির বিভিন্ন উৎস, পানিতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা, পানি ফিল্টারকরণ, পানির তিন অবস্থা ও পানিচক্রের পাশাপাশি সুষম খাদ্য, গ্রিনহাউস প্রভাব, বৈশ্বিক উষ্ণতা, চাঁদের বিভিন্ন দশা, খাদ্যজাল, জীব ও জড়ের পার্থক্য এবং বিভিন্ন ধরনের মেঘ তৈরির প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়। সোলার প্যানেল ও সোলার হাউসের ব্যবহারও দেখানো হয়।
মেলা শেষে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. খায়েজ আহামদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাতেমাতুজ জোহরা।
প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রানী গোপ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লতিকা রত্নম মাননা ও সুব্রত হাজারী। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুবর্ণা বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি এ ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক আয়োজন শিশুদের কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।