আব্বাস হোসাইন আফতাব :
দুপুরের খাবারের সময়। সামনে সাজানো নানা পদ। তবে এই খাবারের স্বাদ যেন একটু আলাদা। কারণ, খাবারের সঙ্গে ছিল মমতা, ভালোবাসা আর আপন করে নেওয়ার অনুভূতি। একসঙ্গে বসে খাবার খাওয়ার আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছিল ধর্মানন্দ বৌদ্ধ অনাথালয়ের শিশুদের মুখ।
অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে পরিচালিত ‘এক বেলা আহার’ কর্মসূচির ৩৪ তম ইভেন্টে এমনই এক মানবিক আয়োজন করা হয়। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ইছামতী এলাকার ধর্মানন্দ বৌদ্ধ অনাথালয়ে শিশুদের জন্য এ খাবারের আয়োজন করা হয়।
সকালে রান্না করা খাবার দুপুরে অনাথালয়ের শিশুদের হাতে তুলে দেন আয়োজকেরা। শুধু খাবার পরিবেশন করেই তাঁরা থেমে থাকেননি, শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন, কথা বলেছেন, ভাগ করে নিয়েছেন আনন্দের মুহূর্ত। এতে দুপুরের আয়োজনটি হয়ে ওঠে এক অন্য রকম ভালোবাসার মিলনমেলা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্মানন্দ বৌদ্ধ অনাথালয়ের অধ্যক্ষ ও পরিচালক স্বরূপানন্দ থের, রাঙ্গুনিয়া ফায়ার স্টেশনের টিম লিডার জাহেদুর রহমান, সাংবাদিক ইসমাঈল হোসেন নয়ন, ধর্মানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সংগীতা রানী বড়ুয়া, ধর্মানন্দ বৌদ্ধ অনাথালয়ের সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক অমল কান্তি বড়ুয়া, অর্থ সম্পাদক সিজিত বড়ুয়া, ‘এক বেলা আহার’-এর প্রতিনিধি মীর সাজ্জাদ, মনসুর ইভান ও মো. সাজ্জাদসহ অনেকে।
আয়োজকেরা বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ‘এক বেলা আহার’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে চান তাঁরা।
একবেলা খাবার হয়তো খুব বড় কিছু নয়। কিন্তু কারও জন্য সেটিই হয়ে উঠতে পারে আপনজনের ভালোবাসার স্পর্শ। ধর্মানন্দ বৌদ্ধ অনাথালয়ের শিশুদের সঙ্গে কাটানো এই দুপুর যেন সেই কথাটিই মনে করিয়ে দিল। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন শুধু একটু আন্তরিকতা।