বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পদুয়ায় কলাবাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃ”ত্যু রাঙ্গুনিয়ায় এক দিনে সাড়ে ৫ হাজার গাছের চারা রোপণ কাপ্তাই সড়কে প্রতিরাতেই ঝুঁকি নিয়ে চলে অতিরিক্ত উচ্চতার ট্রাক, ছিঁড়ল বিদ্যুতের তার তিন দশকের পাঠদান শেষে বিদায়, সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত অধ্যাপক মহসিন শাসনের নামে নির্যাতন, এ কেমন শিক্ষা? রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জসীমের মৃ’ত্যু মরিয়মনগরের ব্যস্ত সড়কে স্পিডব্রেকার, অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন রাজানগরে কাটা হচ্ছে পাহাড় আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধি কামনায় দেবীর আরাধনায় ভক্তরা আজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা: বর্ষাবাস শেষে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়

সবুজ পাহাড়-লেকের টানে আবারও জমজমাট রাঙ্গুনিয়া ইকো পার্ক

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

আব্বাস হোসাইন আফতাব : 
সবুজ পাহাড়, কৃত্রিম লেক, পাখির কলকাকলি আর বনভূমির নৈসর্গিক পরিবেশ সব মিলিয়ে আবারও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠছে রাঙ্গুনিয়া এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্ক। নতুন ব্যবস্থাপনায় পার্কটি চালু হওয়ার পর এর বিভিন্ন স্থাপনা ও বিনোদনব্যবস্থা নতুন করে সাজানো হয়েছে। প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন দর্শনার্থীরা।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের কোদালা বিটের প্রায় ৫২০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে এই ইকোপার্ক। পাহাড় ও বনভূমির মধ্যে গড়ে ওঠা পার্কটিতে রয়েছে কৃত্রিম লেক, মিনি চিড়িয়াখানা, শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা, বসার স্থান, বার্ড গ্যালারি ও ওয়াচিং টাওয়ার। কৃত্রিম লেকে কায়াকিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে।
পার্কটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১০ সালের ৭ আগস্ট। পরে ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। সবুজ বনায়ন ও বিভিন্ন বিনোদন অবকাঠামো গড়ে ওঠায় এটি রাঙ্গুনিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়।
তবে সময়ের সঙ্গে পার্কটির বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলতি বছরের ১ অক্টোবরে পার্কটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেওয়ার পর নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থাপনায় চিলড্রেন কর্নার, ওয়াচিং টাওয়ার, বার্ড গ্যালারি ও সীমানাপ্রাচীরসহ বিভিন্ন স্থাপনা দর্শনার্থীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
পার্ক পরিচালনা সিন্ডিকেটের সদস্য ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সেকান্দর হোসেন বলেন, আগের সময়ে পার্কের বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এখন নতুনভাবে পার্কটিকে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে ঘুরতে পারেন, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পার্ক পরিচালনা সিন্ডিকেটের সদস্য ও উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব এস এম লোকমান বলেন, চলতি বছরের অক্টোবরে পার্কটি বেসরকারি খাতে দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণপিপাসুরা যাতে নিরাপদে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্যাবল কার চালুর বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
পার্কে আগে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার দীর্ঘ ক্যাবল কার বা রোপওয়ের ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে এটি চালু নেই। দর্শনার্থীদের অনেকেই এটি পুনরায় চালুর প্রত্যাশা করছেন।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা মৌসুমী বলেন, ‘প্রিয়জনকে নিয়ে পার্কে বেড়াতে এসেছি। পরিবেশ বেশ নিরিবিলি। সবুজ পাহাড়, কৃত্রিম লেক ও দেশি-বিদেশি পাখি দেখতে পেয়েছি। ক্যাবল কার চালু থাকলে আরও ভালো লাগত।’
রাউজান থেকে বেড়াতে আসা নবদম্পতি জুয়েল ও ইয়াসমিন বলেন, ‘পার্কের বনাঞ্চলজুড়ে পাখির বিচরণ দেখতে ভালো লাগছে। সবুজ পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনকে প্রশান্ত করে।’
পার্ক পরিচালনা সিন্ডিকেটের সদস্য মো. ইউছুপ সিকদার, ইমাম হোসেন চৌধুরী, প্রবাসী আবু নাছের টিপু ও মাসুদ পারভেজ বলেন, নতুন উদ্যোমে পার্ক চালু হওয়ায় দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেছেন। চিলড্রেন কর্নার, ওয়াচিং টাওয়ার, বার্ড গ্যালারি ও কৃত্রিম লেকের পাশাপাশি কায়াকিংয়ের সুযোগ থাকায় দর্শনার্থীরা বাড়তি আনন্দ পাবেন।
বন কর্মকর্তা মো. আব্দুল জব্বার বলেন, ‘মেসার্স ইউনুছ অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এক বছরের জন্য পার্কটি ইজারা পেয়েছে। নব উদ্যমে পার্কটি চালু হওয়ায় দর্শনার্থীরা নিরাপদে ভ্রমণ ও আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।
পাহাড়ের সবুজ, লেকের শান্ত জল আর পাখির কলকাকলিতে রাঙ্গুনিয়া এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্কে এখন আবারও ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও বিনোদনব্যবস্থাগুলো সচল রাখা গেলে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে পার্কটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews