আব্বাস হোসাইন আফতাব:
বেতাগীর মাটিতে বেড়ে ওঠা এক সন্তানের নতুন দায়িত্বে আনন্দিত পুরো এলাকা। পটুয়াখালী জেলার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার কৃতি সন্তান চৌধুরী আশরাফুল করিম। অর্থ বিভাগের সাবেক উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা এবার সামলাবেন দেশের উপকূলীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলার প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁর নতুন দায়িত্বের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাঙ্গুনিয়ার বেতাগীসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে আনন্দের আবহ। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো জানিয়েছে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
চৌধুরী আশরাফুল করিমের শিকড় রাঙ্গুনিয়ার ৭ নম্বর বেতাগী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর বাবা মরহুম আবুল হায়াত চৌধুরী ছিলেন রোটারি বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক। শিক্ষার প্রসারে বাবার অবদানের স্মৃতি বহন করে বড় হয়েছেন তাঁর সন্তানরা। সেই পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান চৌধুরী আশরাফুল করিম আজ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বে।
সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। বেতাগী মানবিক ফাউন্ডেশনের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁর এই অর্জনকে নিজেদের এলাকার একজন মানুষের সাফল্য হিসেবে দেখছেন বেতাগীর মানুষ।
বেতাগী মানবিক ফাউন্ডেশনসহ রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। শুভানুধ্যায়ীদের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে পটুয়াখালীর মানুষের জন্য তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
চৌধুরী আশরাফুল করিমের দায়িত্ব গ্রহণের আগে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ছিলেন ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি পটুয়াখালীর ডিসি হিসেবে দায়িত্ব নেন। প্রায় এক বছরের দায়িত্বকালে জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষা, বৃক্ষরোপণ, কৃষি, শিক্ষা ও জনসেবায় বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে তিনি আলোচনায় ছিলেন।
কুয়াকাটা ও সার্কিট হাউসসংলগ্ন এলাকায় মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে দেশীয় প্রজাতির চারা রোপণ করে বন সৃজন, কালাপাড়ায় কৃষকদের বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয় তাঁর সময়কালে। জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি প্রতিরোধেও তাঁর ভূমিকার কথা স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে।
তাঁর দায়িত্বকালে পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে। চলতি বছরের জুলাইয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর ড. শহীদ হোসেন চৌধুরী পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন।
পটুয়াখালী বাংলাদেশের উপকূলীয় জনপদের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, পর্যটন ও পরিবেশ সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোও জেলার প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এমন একটি জেলার দায়িত্ব এখন রাঙ্গুনিয়ার বেতাগীর সন্তান চৌধুরী আশরাফুল করিমের কাঁধে। তাঁর সামনে রয়েছে প্রশাসনিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, দুর্যোগ মোকাবিলা, নদী ও পরিবেশ রক্ষা, কৃষি ও পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানোসহ নানা চ্যালেঞ্জ।
নিজ এলাকার একজন সন্তান জেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যাওয়ায় রাঙ্গুনিয়ার মানুষের প্রত্যাশাও তাই বড়। বেতাগীর সেই মাটি, যেখানে তাঁর বাবা শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন, সেখান থেকেই উঠে এসে চৌধুরী আশরাফুল করিম আজ একটি জেলার প্রশাসনের নেতৃত্বে।
তাঁর এই পথচলাকে নিজেদের গর্বের গল্প হিসেবে দেখছেন রাঙ্গুনিয়ার মানুষ। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বে তাঁর কর্মদক্ষতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটবে পটুয়াখালীর মানুষের সেবায়।