রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফেসবুকের কল্যাণে হারানো টাকা ফিরে পেলেন জামাল রাঙ্গুনিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জ্বালানি সংকটে ৬ মাসেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি সরকার: জামায়াত আমির জামায়াতের সঙ্গে আলাপ করেই গুলশানে মিছিল করেছে আ. লীগ: রাশেদ খাঁন ডেঙ্গুর ডেন-৩ ধরনে বাড়ছে ঝুঁকি, অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা শিল্পে সংকট ঠেকাতে ১৫০ কূপ খনন ও নতুন এলএন রাঙ্গুনিয়ায় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঘুরে দেখলেন বিভাগীয় কমিশনার নতুন কুঁড়ি সিজন-২ উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় ১৫ দিনের ফ্রি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শেষ দুই যুগ পর আবারও ‘চোরের শিং’! স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়ার সাহা পাড়ায় গভীর রাতে চুরি যে খালে ফিরছে প্রাণ

আজ পবিত্র শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজন

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

প্রতি‌বেদন: সৌরভ সাহা- সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ও পবিত্র তিথি শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মঠ-মন্দিরে দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা-অর্চনা, নামসংকীর্তন, গীতাপাঠ, ভজন-কীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।
সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্র ও বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্বাপর যুগে পৃথিবীতে যখন অধর্ম, অত্যাচার ও অনাচার বৃদ্ধি পায়, তখন ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সাধু-সজ্জনদের রক্ষার জন্য পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় আবির্ভূত হন।
পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে দেবকী ও বাসুদেবের অষ্টম সন্তান হিসেবে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। কংসের অত্যাচার থেকে শিশুকৃষ্ণকে রক্ষা করতে বাসুদেব তাঁকে যমুনা নদী পার হয়ে গোকুলে নন্দ-যশোদার গৃহে নিয়ে যান। সেখানেই নন্দগোপ ও মা যশোদার স্নেহে কৃষ্ণের বাল্যলীলা বিকশিত হয়।
পরবর্তীতে শ্রীকৃষ্ণ কংসের অত্যাচারের অবসান ঘটিয়ে ন্যায় ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
শুধু জন্মোৎসব নয়, ধর্ম ও ন্যায়ের প্রতীক
শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর মাহাত্ম্য শুধু ভগবানের জন্মস্মরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সনাতন ধর্মে এই তিথি ধর্ম, ন্যায়, সত্য, প্রেম ও মানবকল্যাণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন—
“যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত, অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।”
অর্থাৎ, যখনই ধর্মের অবক্ষয় এবং অধর্মের উত্থান ঘটে, তখনই তিনি ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য আবির্ভূত হন।
এই বাণীর মধ্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ মানুষের কাছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান, সত্যের পথে চলা এবং কর্তব্য পালনের শিক্ষা দিয়েছেন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মঠ-মন্দিরে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। সকাল থেকেই অনেক মন্দিরে বিশেষ পূজা, কৃষ্ণনাম সংকীর্তন, ভজন, গীতাপাঠ ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অনেক স্থানে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা, রাধা-কৃষ্ণের লীলা ও ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। কোথাও আবার কৃষ্ণের জন্মকথা ও গীতার দর্শন নিয়ে আলোচনা করছেন সনাতন ধর্মের পণ্ডিত ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা।
দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন মঠ-মন্দিরেও পবিত্র শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে নানা ধর্মীয় আয়োজন করা হয়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন মন্দিরে ভক্তদের উপস্থিতি, পূজা-অর্চনা, নামসংকীর্তন ও ভজন-কীর্তনে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
বিভিন্ন আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জীবন, দর্শন ও ধর্মীয় শিক্ষার তাৎপর্য তুলে ধরা হচ্ছে। ভক্তরা উপবাস, পূজা ও প্রার্থনার মাধ্যমে দিনটি পালন করছেন। সন্ধ্যার পর থেকে অনেক মন্দিরে বিশেষ কীর্তন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব স্মরণ করে পূজা, আরতি ও প্রার্থনায় অংশ নেন। মন্দিরে মন্দিরে ধ্বনিত হয় “হরে কৃষ্ণ” মহামন্ত্র।
ভক্তদের বিশ্বাস, কৃষ্ণের জীবন ও বাণী অনুসরণ করলে মানুষের অন্তরে প্রেম, ভক্তি, সত্য ও ন্যায়ের চেতনা জাগ্রত হয়। তাই জন্মাষ্টমী কেবল আনন্দ-উৎসব নয়—এটি আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
শ্রীকৃষ্ণের দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্ম ও কর্তব্য। গীতায় তিনি মানুষকে ফলের প্রতি আসক্ত না হয়ে নিজের কর্তব্য সঠিকভাবে পালনের শিক্ষা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ভক্তি, জ্ঞান ও কর্মের সমন্বিত পথের কথা বলেছেন।
তাঁর শিক্ষা মানুষকে সংকটের মুহূর্তে হতাশ না হয়ে ন্যায় ও সত্যের পথে অবিচল থাকার প্রেরণা দেয়। এ কারণেই যুগের পর যুগ ধরে শ্রীকৃষ্ণ কোটি কোটি মানুষের কাছে শুধু একজন আরাধ্য দেবতা নন, বরং জীবনদর্শনের পথপ্রদর্শক হিসেবেও শ্রদ্ধেয়।
জন্মাষ্টমীর এই পবিত্র দিনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাশা—সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, অন্যায় ও অশান্তি দূর হয়ে প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিকতা। শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও গীতার বাণী মানুষের জীবনে সত্য, ন্যায় ও কর্তব্যবোধ জাগ্রত করুক—এমনই প্রার্থনা ভক্তদের।
শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর পবিত্র তিথিতে সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews