চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৩ নম্বর স্বনির্ভর ইউনিয়নের শান্তিনিকেতন গ্রামে বেশ কয়েকদিন ধরে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। একাধিক ব্যক্তি জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গে আক্রান্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে গ্রামে জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গে ভুগছেন অনেকে। আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজন ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়েছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এলাকায় মোট কতজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে সরকারি কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রামটির বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকা, নালা-নর্দমায় ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে এডিস মশার বংশবিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার, বালতি ও অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত এলাকায় মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে ধ্বংস করার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও প্রয়োজনীয় মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের মতে, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং পরিষ্কার জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করা জরুরি।
এদিকে জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা র্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। ডেঙ্গু সন্দেহ হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
শান্তিনিকেতন গ্রামের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।