প্রতিবেদন: সৌরভ সাহা- আনন্দ পুরুষোত্তম শ্রীশ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের ১৫৬তম শুভ আবির্ভাব তিথি স্মরণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক আবহে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘শ্রীশ্রী বন্ধু পরিক্রমা উৎসব-২০২৬
গত ২১, ২২ ও ২৩ আগস্ট শুক্রবার, শনিবার ও রবিবার দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়ার শ্রীশ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু মহাউদ্বারণ মঠে মহানাম সেবক সংঘ, রাঙ্গুনিয়া শাখার উদ্যোগে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
তিন দিনব্যাপী উৎসবকে ঘিরে মঠ প্রাঙ্গণে ছিল নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। রাঙ্গুনিয়াসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক ভক্তের উপস্থিতিতে পুরো মঠ এলাকা পরিণত হয় ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার মিলনমেলায়।
উৎসবের প্রথম দিন গীতাপাঠের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। শ্রী কৌশিক সাহার তত্ত্বাবধানে মহানাম নবনী সন্ত গীতা বিদ্যা নিকেতন, শিলক হাজারীখীল প্রবাসী গীতা শিক্ষা নিকেতন, নিশ্চিন্তাপুর শারদাঞ্জলী গীতা বিদ্যাপীঠ এবং দেবনাথ সমাজকল্যাণ গীতা ও সংগীত নিকেতনের শিক্ষার্থীরা গীতাপাঠে অংশ নেয়।
প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের ১৫৬তম শুভ আবির্ভাব তিথি স্মরণে প্রজ্বলন করা হয় ১৫৬টি মঙ্গল প্রদীপ। একে একে প্রদীপ জ্বলে উঠলে আলোকিত হয়ে ওঠে মঠ প্রাঙ্গণ। সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন ও ভক্তিময় পরিবেশ।
রাজীব সাহা ও অর্নব মল্লিকের বাদ্যযন্ত্রের সুরমূর্ছনায় সংগীত পরিবেশন করেন গৌরভাবিনী সাহা, দীপক সাহা, অজয় চক্রবর্তী, কৌশিক সাহা, মিনাক্ষী চৌধুরীসহ অন্যান্য শিল্পী। তাঁদের কণ্ঠে ধর্মীয় সংগীত ও ভক্তিমূলক পরিবেশনায় উৎসবস্থলে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন ও ভক্তিময় আবহ। সুমধুর সংগীতে মুগ্ধ হয়ে উপস্থিত ভক্তরা গভীর আনন্দ ও ভক্তিভাব নিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
রাতে অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় পাঠ ও মহানামসংক্রান্ত বিশেষ আয়োজন।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন ব্রাহ্মমুহূর্তে অনুষ্ঠিত হয় শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন ও মহানাম মহাকীর্তন। সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তদের আগমনে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে মঠ প্রাঙ্গণ।
ফরিদপুর থেকে আগত মহানাম সম্প্রদায়ের কীর্তনীয়ারা দিনব্যাপী হরিনাম ও মহানাম সংকীর্তন পরিবেশন করেন। ঢাক, খোল ও করতালের ছন্দে ভক্তদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় হরিনাম। কীর্তনের সুরে একাত্ম হয়ে অনেক ভক্তকে নৃত্য ও নামসংকীর্তনে অংশ নিতে দেখা যায়।
এ সময় পুরো মঠ প্রাঙ্গণ যেন পরিণত হয় এক আধ্যাত্মিক মিলনক্ষেত্রে।
ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। প্রসাদ গ্রহণে অংশ নেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভক্তরা। এর মধ্য দিয়ে উৎসবে তৈরি হয় সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির আবহ।
উৎসবের তৃতীয় ও শেষ দিন অনুষ্ঠিত হয় নগর পরিক্রমা, দধি-হরিদ্রা ও পূর্ণাহুতি। এতে বিপুলসংখ্যক ভক্ত অংশগ্রহণ করেন।
হরিনাম সংকীর্তন, কীর্তনের সুর ও ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানে মঠ প্রাঙ্গণসহ আশপাশের এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। ভক্তদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় হরিনাম। ধর্মীয় আবেগ ও আনন্দের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় উৎসবের শেষ পর্ব।
উৎসব কমিটির সভাপতি দীপ্ত সাহা জানান, প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের আবির্ভাব তিথি শুধু ধর্মীয় স্মরণোৎসব নয়; এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে প্রেম, মানবতা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির চেতনা জাগ্রত করার বার্তা দেওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, মহানাম সংকীর্তন, গীতাপাঠ, ধর্মীয় আলোচনা ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভক্তরা প্রভুর চরণে নিজেদের নিবেদন করেন। পাশাপাশি সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিন দিনব্যাপী এ উৎসবে রাঙ্গুনিয়াসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বী অংশগ্রহণ করেন।
গীতাপাঠ, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন, মহানাম সংকীর্তন, মহাপ্রসাদ বিতরণ, নগর পরিক্রমা, দধি-হরিদ্রা ও পূর্ণাহুতির মধ্য দিয়ে ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার আবহে শেষ হয় ‘শ্রীশ্রী বন্ধু পরিক্রমা উৎসব-২০২৬।