বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পদুয়ায় কলাবাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃ”ত্যু রাঙ্গুনিয়ায় এক দিনে সাড়ে ৫ হাজার গাছের চারা রোপণ কাপ্তাই সড়কে প্রতিরাতেই ঝুঁকি নিয়ে চলে অতিরিক্ত উচ্চতার ট্রাক, ছিঁড়ল বিদ্যুতের তার তিন দশকের পাঠদান শেষে বিদায়, সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত অধ্যাপক মহসিন শাসনের নামে নির্যাতন, এ কেমন শিক্ষা? রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জসীমের মৃ’ত্যু মরিয়মনগরের ব্যস্ত সড়কে স্পিডব্রেকার, অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন রাজানগরে কাটা হচ্ছে পাহাড় আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধি কামনায় দেবীর আরাধনায় ভক্তরা আজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা: বর্ষাবাস শেষে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়

দেশবরেণ্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী প্রদীপ কুমার দাশের পরলোকগমন

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শান্তিনিকেতন গ্রামের কৃতী সন্তান, দেশবরেণ্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, বেতার ও টেলিভিশনের নিয়মিত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী এবং আর্য্য সংগীতের স্বনামধন্য রবীন্দ্রসংগীত শিক্ষক প্রদীপ কুমার দাশ আর নেই। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে তিনি পর‌লোক গমন ক‌রেন । তাঁর মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রদীপ কুমার দাশ ছিলেন রবীন্দ্রসংগীতের একজন নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী ও শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বেতার ও টেলিভিশনে নিয়মিত রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নেন। পাশাপাশি আর্য্য সংগীতের মাধ্যমে রবীন্দ্রসংগীতের শিক্ষা ও চর্চা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান যেমন শ্রোতাদের মুগ্ধ করত, তেমনি তাঁর কাছ থেকে সংগীতের তালিম নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী রবীন্দ্রসংগীত চর্চায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শান্তিনিকেতন গ্রামের এক গর্বিত সন্তান ছিলেন প্রদীপ কুমার দাশ। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সাধনা, অধ্যবসায় ও মেধার মাধ্যমে তিনি রবীন্দ্রসংগীতের জগতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন।
তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার নামও জড়িয়ে ছিল গভীরভাবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন ও শিক্ষাদানের পাশাপাশি তিনি নিজ এলাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ ও লালন করেছেন।
প্রদীপ কুমার দাশ রাঙ্গুনিয়া খিল মোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৭৫ ব্যাচের প্রাক্তন কৃতী ছাত্র ছিলেন। তাঁর শিক্ষা জীবনের স্মৃতিও এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
বিদ্যালয়ের সাবেক এই কৃতী শিক্ষার্থীর পরলোকগমনের সংবাদে তাঁর সহপাঠী, শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের মাঝে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। একজন কৃতী শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি পরবর্তীকালে নিজ প্রতিভা ও কর্মের মাধ্যমে বৃহত্তর পরিসরে পরিচিতি লাভ করেন।
রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল আজীবন। গানকে শুধু পরিবেশনার বিষয় হিসেবে নয়, বরং একটি জীবনদর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে ধারণ করতেন তিনি। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান পরিবেশনের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে রবীন্দ্রসংগীতের সৌন্দর্য ও শুদ্ধতার সঙ্গে পরিচিত করানো ছিল তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
তাঁর প্রয়াণে রবীন্দ্রসংগীতের অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে এক অপূরণীয় শূন্যতা। একই সঙ্গে রাঙ্গুনিয়া হারাল তার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক গুণী ও কৃতী সন্তানকে।
প্রদীপ কুমার দাশের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাঙ্গুনিয়া, তাঁর নিজ গ্রাম শান্তিনিকেতন এবং সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাবেক সহপাঠী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছেন।
তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবন, রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি নিষ্ঠা এবং অসংখ্য শিক্ষার্থীর মাঝে সংগীতের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন গুণগ্রাহীরা।
গুণী এই শিল্পী ও সংগীত শিক্ষকের প্রয়াণে তাঁর পরিবার-পরিজন, স্বজন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে। তাঁর কর্ম ও সৃষ্টিশীলতার মধ্য দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।
তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews