চট্টগ্রাম: ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহাসিক জশনে জুলুছের রুট চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত রুটে জুলুছ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট।
আনজুমান কর্তৃপক্ষের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৭ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পুলিশ কমিশনার ও অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে আনজুমান নেতৃবৃন্দের প্রশাসনিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সরকারি সেবা সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সড়ক সংস্কার, উন্মুক্ত নর্দমা, বিভিন্ন সড়কের সংকীর্ণতা এবং জরুরি বিভাগ ও যান চলাচলের পথ স্বাভাবিক রাখার বিষয়গুলো বিবেচনা করে জশনে জুলুছের রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে জুলুছ চলাকালে নগরের একটি অংশ যাতে সাধারণ মানুষের জরুরি কাজে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
যে পথে যাবে জুলুছ–
নির্ধারিত রুট অনুযায়ী, জুলুছটি আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়দিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে শুরু হবে। এরপর বিবিরহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে আবার একই পথে ফিরে আসবে। পরে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা ময়দানে গিয়ে জুলুছের সমাপ্তি হবে।
আনজুমান কর্তৃপক্ষ বলেছে, জুলুছে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের স্বার্থে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রুটটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আনজুমান কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়ে তা মেনে নিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জশনে জুলুছের আয়োজন, পরিচালনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আনজুমান কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আনজুমানের ভাষ্য অনুযায়ী, আওলাদে রাসুল, পীর-এ-বাঙ্গাল হুজুর কেবলা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মু. জি. আ.)-ও নির্ধারিত রুটে সম্মতি জানিয়েছেন। এ কারণে সরকার ও আনজুমান কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
রুট পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন
এদিকে আগামী ২২ আগস্ট শনিবার বিকেল চারটায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে জশনে জুলুছের রুট পরিবর্তনের দাবিতে একটি মানববন্ধনের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে ওই মানববন্ধন বা এ ধরনের কোনো সংগঠন ও কর্মসূচির সঙ্গে আনজুমানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট করেছে আনজুমান কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের কর্মসূচি প্রশাসন ও আনজুমান কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয় ও সুসম্পর্ক বিনষ্টের অপপ্রয়াস হতে পারে।
কোনো ধরনের প্ররোচনা বা বিভ্রান্তিতে না পড়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আনজুমান কর্তৃপক্ষ বলেছে, পবিত্র জশনে জুলুছকে সর্বোচ্চ সফলতায় রূপ দিতে সব আশেকে রাসুলের সহযোগিতা প্রয়োজন।