রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফেসবুকের কল্যাণে হারানো টাকা ফিরে পেলেন জামাল রাঙ্গুনিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জ্বালানি সংকটে ৬ মাসেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি সরকার: জামায়াত আমির জামায়াতের সঙ্গে আলাপ করেই গুলশানে মিছিল করেছে আ. লীগ: রাশেদ খাঁন ডেঙ্গুর ডেন-৩ ধরনে বাড়ছে ঝুঁকি, অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা শিল্পে সংকট ঠেকাতে ১৫০ কূপ খনন ও নতুন এলএন রাঙ্গুনিয়ায় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঘুরে দেখলেন বিভাগীয় কমিশনার নতুন কুঁড়ি সিজন-২ উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় ১৫ দিনের ফ্রি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শেষ দুই যুগ পর আবারও ‘চোরের শিং’! স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়ার সাহা পাড়ায় গভীর রাতে চুরি যে খালে ফিরছে প্রাণ

রাঙ্গুনিয়ায় উদ্ধার হওয়া শিশুর নতুন ঠিকানা রৌফাবাদ, অপেক্ষা আপনজনের

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

আব্বাস হোসাইন আফতাব:
রাত তখন প্রায় পৌনে একটাা। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের নিচিন্তাপুর খেলিয়া ঘোনা এলাকায় এক কিশোরকে একা ঘোরাফেরা করতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। কাছে গিয়ে তাঁর পরিচয় জানতে চাইলেও কোনো কথা বলতে পারেনি সে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতের এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া শিশুটির বয়স আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ বছর। এখনো তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, উদ্ধারের আগে প্রায় সাত থেকে আট দিন ধরে শিশুটিকে ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিল।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর রাতের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। শিশুটি নিজের নাম মহিউদ্দিন, মায়ের নাম পারুল এবং বাবার নাম নজরুল বলতে পারে। এর বাইরে সে আর তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
পরে থানাসহ আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নেওয়া হলেও শিশুটির কোনো অভিভাবক বা স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ৪ সেপ্টেম্বর রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর শিশুটিকে থানার হেফাজতে রাখা হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) থানা হেফাজত থেকে শিশুটিকে চট্টগ্রামের রৌফাবাদে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাঁর নিরাপদ থাকা, খাবার ও প্রয়োজনীয় যত্নের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও পরিবারের সন্ধান করার উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে। চট্টগ্রাম সমাজসেবা কার্যালয়-২-এর শিশু সুরক্ষা কর্মী রিমঝিম আহমেদ বলেন, ‘শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই করে শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এর মধ্যে তাঁর নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান বলেন, ‘শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁকে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সন্ধান করা হচ্ছে। পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেলে যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে শিশুটিকে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, ‘অভিভাবকহীন ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। তাঁর পরিচয় ও পরিবারের সন্ধান করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আপাতত তাঁকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’

এদিকে শিশুটির পরিবারের সন্ধান পেতে স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর অব্যাহত রয়েছে। পরিচয় শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত সমাজসেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে শিশুটির প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও যত্ন নিশ্চিত করা হবে।
কয়েক দিন ধরে অচেনা একটি এলাকায় ঘুরে বেড়ানো শিশুটির এখন ঠিকানা হয়েছে চট্টগ্রামের রৌফাবাদ। নিরাপদ আশ্রয় মিললেও তাঁর অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি। অপেক্ষা আপনজনের, একটি পরিচয়ের। পরিবারের সন্ধান মিললেই হয়তো শেষ হবে তাঁর এই অনিশ্চিত পথচলা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews