শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নতুন কুঁড়ি সিজন-২ উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় ১৫ দিনের ফ্রি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শেষ দুই যুগ পর আবারও ‘চোরের শিং’! স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়ার সাহা পাড়ায় গভীর রাতে চুরি যে খালে ফিরছে প্রাণ সরকারি চাকরিতে কমছে লিখিতের নম্বর, বাড়ছে ভাইভার গুরুত্ব পর্যটক আকৃষ্ট করতে আগে রাঙ্গুনিয়াকে পরিষ্কার করতে হবে- হুমাম কাদের এমপি ৬ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় খাল পরিষ্কারে এমপি হুমাম কাদের রাঙ্গুনিয়া পাইলট স্কুলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা সংবর্ধিত রাঙ্গুনিয়ায় বিআইজেড স্কুলে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন রাঙ্গুনিয়ায় ৫৩ প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে কার্প জাতীয় পোনা মাছ বিতরণ রাঙ্গুনিয়ায় একমাত্র নারী বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেখা রানী সাহার মৃত্যু

‘এরকম একদিন যদি আমরাও খেলতে পারতাম!’—আফসোস থেকে আনন্দের মাঠে এতিমখানার শিশুরা

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

আব্বাস হোসাইন আফতাব :
মাঠের এক পাশে তখন জমজমাট ফুটবল অনুশীলন। দৌড়, পাস, শট আর গোলের আনন্দে মুখর রাঙ্গুনিয়া আইকনিক স্পোর্টস জোন। উত্তর রাঙ্গুনিয়া স্কুলের নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের অনুশীলন দেখতে মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল পাশের চাঁদ নগরের একটি এতিমখানার কয়েকজন শিক্ষার্থী।
তারা চুপচাপ দেখছিল অন্যদের খেলা। চোখে ছিল খেলার প্রতি টান, মনে ছিল মাঠে নামার আকাঙ্ক্ষা। একপর্যায়ে তাদের কারও মুখ থেকে বেরিয়ে আসে ছোট্ট একটি কথা
‘এরকম একদিন যদি আমরাও খেলতে পারতাম!’
কথাটি হয়তো খুব সাধারণ। কিন্তু সেই কথার ভেতরে লুকিয়ে ছিল অনেক বড় একটি আকাঙ্ক্ষা। খেলার মাঠে নামার, দৌড়ানোর, বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করার একটি শিশুর স্বাভাবিক শৈশবের সেই ছোট্ট স্বপ্ন।
তাদের সেই আফসোসের কথাটি পৌঁছে যায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আয়োজকদের কানে। এরপর আর দেরি নয়। আজ পাশের এতিমখানার শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হলো খেলার মাঠের দরজা। আয়োজন করা হলো ফ্রি খেলার সুযোগ।
যে শিশুরা কিছুক্ষণ আগেও মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে অন্যদের খেলা দেখছিল, তারাই এবার নেমে গেল মাঠে। হাতে বল, পায়ে দৌড় মুহূর্তেই বদলে গেল পুরো দৃশ্য।
কারও মুখে প্রাণখোলা হাসি, কারও চোখে উচ্ছ্বাস। কেউ ছুটছে বলের পেছনে, কেউ গোল করার আনন্দে মেতে উঠছে। তাদের সেই আনন্দ দেখে মনে হচ্ছিলএকটি শিশুর জন্য কখনো কখনো বড় কোনো আয়োজন নয়, প্রয়োজন শুধু একটি সুযোগ।
খেলাধুলা কেবল বিনোদনের বিষয় নয়। এটি শিশুদের আনন্দ, আত্মবিশ্বাস, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং সুন্দর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সুযোগের অভাবে অনেক শিশুই সেই আনন্দ থেকে দূরে থাকে।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের এই ছোট্ট উদ্যোগ যেন সেই বাস্তবতার দিকেই আঙুল তুলল। মাঠটি সবার জন্য—শুধু যারা নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পায় তাদের জন্য নয়; যারা দূরে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখে, তাদের জন্যও।
আজ তাই মাঠে শুধু খেলা হয়নি। বদলে গেছে কয়েকটি শিশুর আফসোসের গল্প।
‘একদিন যদি আমরাও খেলতে পারতাম’—তাদের সেই আকাঙ্ক্ষার উত্তর মিলেছে আজকের খেলায়।
হয়তো দিন শেষে তারা বাড়ি ফিরেছে শরীরে ক্লান্তি নিয়ে। কিন্তু সঙ্গে নিয়ে গেছে এক টুকরো আনন্দ।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews