শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নতুন কুঁড়ি সিজন-২ উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় ১৫ দিনের ফ্রি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শেষ দুই যুগ পর আবারও ‘চোরের শিং’! স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়ার সাহা পাড়ায় গভীর রাতে চুরি যে খালে ফিরছে প্রাণ সরকারি চাকরিতে কমছে লিখিতের নম্বর, বাড়ছে ভাইভার গুরুত্ব পর্যটক আকৃষ্ট করতে আগে রাঙ্গুনিয়াকে পরিষ্কার করতে হবে- হুমাম কাদের এমপি ৬ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় খাল পরিষ্কারে এমপি হুমাম কাদের রাঙ্গুনিয়া পাইলট স্কুলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা সংবর্ধিত রাঙ্গুনিয়ায় বিআইজেড স্কুলে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন রাঙ্গুনিয়ায় ৫৩ প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে কার্প জাতীয় পোনা মাছ বিতরণ রাঙ্গুনিয়ায় একমাত্র নারী বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেখা রানী সাহার মৃত্যু

বস্তায় আদার স্বপ্ন দেখছেন তরুণ কলিম উল্লাহ

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭৪ বার পড়া হয়েছে

চারপাশে সবুজের সমারোহ। সারি সারি বস্তা। প্রতিটি বস্তায় বেড়ে উঠছে আদার গাছ। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে, এটি কোনো প্রচলিত কৃষিখেত। কিন্তু না, এখানে মাটির জমিতে নয়, বস্তায় হচ্ছে আদার চাষ। আর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার তরুণ খামারি ও শিক্ষিত যুবক মোহাম্মদ কলিম উল্লাহ। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা এলাকার বনগ্রামে গত ১৮ এপ্রিল শুরু হয় তাঁর এই নতুন উদ্যোগ। সীমিত মূলধন নিয়ে শুরু করা প্রকল্পে এখন রয়েছে ২০০ বস্তা আদা। প্রতিটি বস্তায় লাগানো হয়েছে বারি-২ জাতের আদা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং পরিচর্যা ঠিকমতো করতে পারলে চলতি মৌসুমে এসব বস্তা থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি আদা উৎপাদনের প্রত্যাশা করছেন তিনি।
কলিম উল্লাহর বস্তায় আদা চাষের পেছনে রয়েছে দুটি ভাবনা। একটি হলো দেশে আদার উৎপাদন বাড়ানো, অন্যটি খামারে থাকা জৈব সম্পদের সঠিক ব্যবহার।
দেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আদা আমদানি করতে হয়। বাজারে আদার চাহিদা থাকলেও উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম। বিষয়টি তাঁকে ভাবিয়েছে। নিজের জায়গা থেকে কিছু করার চিন্তা থেকেই বস্তায় আদা চাষের উদ্যোগ নেন তিনি।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খামারের গোবর ও অন্যান্য জৈব উপাদান ব্যবহারের সুযোগ। কৃষিকাজে এসব উপাদানকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায়, সেটিও ছিল তাঁর চিন্তার অংশ।
কলিম উল্লাহ বলেন, দেশে আদার চাহিদা অনেক। কিন্তু প্রতিবছরই বাইরে থেকে আদা আনতে হয়। তাই দেশেই আদার উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে কিছু করার ইচ্ছা থেকেই তিনি বস্তায় আদা চাষ শুরু করেছেন। পাশাপাশি খামারে উৎপাদিত গোবরের জৈব সারও কাজে লাগাতে চেয়েছেন।
বস্তায় চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর জন্য বড় কোনো কৃষিজমির প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনা, খালি জায়গা কিংবা অনাবাদি স্থানে বস্তা রেখে সহজেই চাষ করা যায়। ফলে জমির স্বল্পতা থাকা তরুণদের জন্যও এ পদ্ধতি সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিতে পারে।
কলিম উল্লাহর খামারে বস্তায় আদা চাষ দেখতে এসে স্থানীয় কয়েকজনও আগ্রহী হয়েছেন। তাঁর উদ্যোগ দেখে তাঁরা নিজেরাও বস্তায় আদা চাষের কথা ভাবছেন।
তরুণ এই খামারির কাছে ২০০টি বস্তা শুধু আদা চাষের হিসাব নয়, এটি একটি স্বপ্নের শুরু। সীমিত মূলধন, অব্যবহৃত জায়গা আর খামারের জৈব সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কৃষিতে নতুন কিছু করার চেষ্টা তাঁর।
কলিম উল্লাহর আশা, তাঁর এই ছোট উদ্যোগ একদিন আরও বড় হবে। পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়ার অন্য তরুণেরাও যদি এমন বিকল্প কৃষি উদ্যোগে এগিয়ে আসেন, তাহলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতাও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
মাটির জমি নয়, বস্তায় বেড়ে ওঠা এই আদার গাছগুলো তাই শুধু একটি ফসলের গল্প নয়; এটি একজন তরুণের স্বপ্ন, উদ্যোগ আর সম্ভাবনার গল্প।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews