শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নতুন কুঁড়ি সিজন-২ উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় ১৫ দিনের ফ্রি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শেষ দুই যুগ পর আবারও ‘চোরের শিং’! স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়ার সাহা পাড়ায় গভীর রাতে চুরি যে খালে ফিরছে প্রাণ সরকারি চাকরিতে কমছে লিখিতের নম্বর, বাড়ছে ভাইভার গুরুত্ব পর্যটক আকৃষ্ট করতে আগে রাঙ্গুনিয়াকে পরিষ্কার করতে হবে- হুমাম কাদের এমপি ৬ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় খাল পরিষ্কারে এমপি হুমাম কাদের রাঙ্গুনিয়া পাইলট স্কুলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা সংবর্ধিত রাঙ্গুনিয়ায় বিআইজেড স্কুলে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন রাঙ্গুনিয়ায় ৫৩ প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে কার্প জাতীয় পোনা মাছ বিতরণ রাঙ্গুনিয়ায় একমাত্র নারী বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেখা রানী সাহার মৃত্যু

পাত্রী দেখে ফেরার কথা ছিল আনন্দ নিয়ে, ফিরলেন লাশ হয়ে

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৬৩ বার পড়া হয়েছে

আব্বাস হোসাইন আফতাব :
রাত তখন সোয়া ৮টা। দিনের কাজ শেষ করে মোটরসাইকেলে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলেন অপু দাশ। হয়তো তাঁর মনে তখন ছিল বাড়ি ফেরার স্বাভাবিক তাড়া, সামনে ছিল নতুন জীবনের স্বপ্ন। কয়েক ঘণ্টা আগেই তাঁর বিয়ের জন্য পাত্রী দেখা হয়েছিল। পরিবারে ছিল নতুন অতিথি আসার অপেক্ষা, বিয়ের আয়োজন নিয়ে ছিল আনন্দের আবহ।
কিন্তু সেই আনন্দ আর ঘরে পৌঁছায়নি।
শুক্রবার রাতে কাপ্তাই সড়কের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন কাতালপীর শাহ দরগাহের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন অপু দাশ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মুহূর্তেই একটি পরিবারের সব আনন্দ পরিণত হয় কান্না আর শোকে।
অপু দাশ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া গ্রামের বাঘার বাড়ির মৃত বাদল দাশের একমাত্র ছেলে। পরিবারের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে এখন শোকে পাথর তাঁর মা।
অপু রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকার দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থলেও তিনি ছিলেন সবার আস্থাভাজন। শুক্রবার রাত আটটার দিকে দায়িত্ব পালন শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে বের হন তিনি।
এর কিছুক্ষণ পরই আসে দুর্ঘটনার খবর।
হাসপাতালের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, অপু মোটরসাইকেলসহ সড়কের ওপর পড়ে আছেন। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মাথায় গুরুতর আঘাত এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রাত ১১টার দিকে না ফেরার দেশে চলে যান অপু।
দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক (মার্কেটিং) মৃনাল কান্তি বড়ুয়া বলেন, অপু ছিলেন হাসপাতালের অত্যন্ত বিশ্বস্ত কর্মকর্তা। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো হাসপাতাল পরিবার শোকাহত।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয়, দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই অপুর বিয়ের জন্য পাত্রী দেখা হয়েছিল। নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে যে যুবকের ঘরে ফেরার কথা ছিল, সেই ঘরেই এখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছেছে।
একদিকে বিয়ের কথা চলছিল, অন্যদিকে মুহূর্তেই থেমে গেল একটি জীবনের সব পরিকল্পনা। যে ঘরে হয়তো বিয়ের পোশাক, আত্মীয়স্বজন আর আনন্দের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন শোনা যাচ্ছে কান্না ও আহাজারি।
অপুর মা হারিয়েছেন তাঁর একমাত্র সন্তানকে। এই শূন্যতা কোনো শব্দে পূরণ হওয়ার নয়।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান ওসি। কোনো অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কাপ্তাই সড়কে এমন দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সড়কে একটি মুহূর্তের দুর্ঘটনা কতটা নির্মমভাবে বদলে দিতে পারে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ।
অপুর পরিবার হয়তো ভেবেছিল, সামনে তাদের ঘরে বিয়ের সানাই বাজবে। কিন্তু সেই ঘরেই এখন নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা।
পাত্রী দেখা হয়েছিল, বিয়ের স্বপ্নও ছিল। শুধু বর আর ফিরলেন না।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews