আব্বাস হোসাইন আফতাব : সময় পেরিয়ে যায়, বদলে যায় জীবনের ব্যস্ততা। কিন্তু কিছু সম্পর্কের শেকড় থেকে যায় হৃদয়ের গভীরে। প্রিয় বিদ্যালয়, প্রিয় শিক্ষক আর কৈশোরের সেই স্মৃতিগুলো যেন সময়ের সঙ্গে আরও বেশি আপন হয়ে ওঠে। সেই টান থেকেই রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯৮ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘স্পন্দন-৯৮ ব্যাচ’ পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের।
বিদ্যালয়ের পাঠাগারের জন্য একটি স্টিলের বুক শেলফ উপহার দিয়েছে সংগঠনটি। সাধারণ চোখে এটি হয়তো একটি বই রাখার তাক; কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একদল প্রাক্তন শিক্ষার্থীর স্মৃতি, ভালোবাসা ও আগামী প্রজন্মের জন্য কিছু করার প্রত্যয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম. মিজানুর রহমানের কাছে বুক শেলফটি হস্তান্তর করা হয়।‘স্পন্দন-৯৮ ব্যাচ’ এর সদস্য, সাংবাদিক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি আব্বাস হোসাইন আফতাব এবং প্রাক্তণ ছাত্র ও চিকিৎসক শিম্পু বড়ুয়া।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি মো. রহিম উদ্দিন সিকদার, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবু সায়েম এবং লাইব্রেরিয়ান মোহাম্মদ হাছান।
একটি বুক শেলফ, অসংখ্য স্বপ্ন
একসময় যাঁরা এই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন, আজ তাঁদের অনেকেই জীবনের নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। কর্মব্যস্ত জীবনের নানা ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁরা ভুলে যাননি তাঁদের বেড়ে ওঠার জায়গাটিকে।
‘স্পন্দন-৯৮ ব্যাচ’-এর এই উদ্যোগ সেই দায়বদ্ধতারই প্রতিচ্ছবি। একটি বুক শেলফ হয়তো ছোট্ট একটি উপহার, কিন্তু সেখানে সাজানো হবে বই; আর সেই বইয়ের পাতায় খুলে যাবে শিক্ষার্থীদের সামনে নতুন নতুন জগতের দরজা।
জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র পাঠাগার। তাই পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করার এই উদ্যোগ বর্তমান শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও রেখে যাবে একটি সুন্দর স্মৃতি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সম্পর্ক শুধু কয়েক বছরের নয়। বিদ্যালয়ের আঙিনা, শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষকদের স্নেহ, সবকিছুই জীবনের স্মৃতির অংশ হয়ে থাকে। সময়ের ব্যবধানে সেই শিক্ষার্থীরা যখন আবার নিজেদের শেকড়ে ফিরে আসেন, তখন তা হয়ে ওঠে এক অন্যরকম আনন্দের মুহূর্ত।
‘স্পন্দন-৯৮ ব্যাচ’ এর এই উদ্যোগ তাই কেবল একটি উপহার দেওয়ার ঘটনা নয়, ; এটি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রিয় বিদ্যালয়ের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত।
আজকের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চায় সামান্য হলেও অবদান রাখতে পারা এই আনন্দই হয়তো প্রাক্তনদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা থাকুক, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ুক বই পড়ার সংস্কৃতি। ‘স্পন্দন-৯৮ ব্যাচ’-এর এই স্পন্দন ছুঁয়ে যাক প্রিয় বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে।