রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মঘাইছড়ি এলাকায় একই রাতে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ আগস্ট দিবাগত রাতে রবি টাওয়ারের লোহার দরজা ভেঙে বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির পাশাপাশি একটি সমিল থেকে বড় মোটর ও বৈদ্যুতিক তার এবং একটি বাড়ি থেকে পানির মোটর চুরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চুরির সময় রবি টাওয়ারের তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট করে ফেলে দুর্বৃত্তরা। তবে পাশের একটি স্থানের সিসিটিভি ক্যামেরায় সন্দেহভাজন ৫ থেকে ৭ জনকে কয়েক দফা চলাচল করতে দেখা গেছে।
মঘাইছড়ি এলাকার হাজী রহম আলী তালুকদার ওয়াকফ স্টেটের মোতাওয়াল্লি মাহাবুব আলম সিকদার বলেন, অফিস ও এলাকার নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। চুরির রাতে দুর্বৃত্তরা তিনটি ক্যামেরা নষ্ট করে দেয়।
স্থানীয়রা জানান, পাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে রাতের ওই সময়ে ৫ থেকে ৭ জনের মতো ব্যক্তিকে ৪ থেকে ৫ বার চলাচল করতে দেখা গেছে। ফুটেজে তাঁদের পায়ের অংশও দেখা গেছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
একই রাতে ইয়াছিন আরাফাতের মালিকানাধীন মনোয়ারা সমিলেও চুরি হয়। সমিলের ভেতর থেকে ২০ হর্সপাওয়ারের একটি মোটর ও প্রায় ৩৫ ফুট মোটা বৈদ্যুতিক তার চুরি করা হয়েছে। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় সমিলের মালিকের স্ত্রী সাবরিনা আলম ইসমা (২৪) গত ৮ আগস্ট রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ৭ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটে।
সাবরিনা আলম ইসমা জানান, সকালে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান। আশপাশে খোঁজ করেও চুরি যাওয়া মালামাল পাওয়া যায়নি। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া একই রাতে মঘাইছড়ি এলাকার আনিসের বাড়ি থেকেও একটি পানির মোটর চুরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, মঘাইছড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনা বেড়েছে। বিভিন্ন যানবাহন থেকে ব্যাটারি ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনাও ঘটছে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ব্যবসায়ীরা দ্রুত চুরির ঘটনাগুলোর তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এলাকায় রাতের টহল জোরদারেরও দাবি জানান তাঁরা।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।