কিন্তু সেই ভিড়ের অধিকাংশ মানুষ আহত যুবককে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কেউ লাইভ করছিলেন, কেউ ছবি তুলছিলেন। অথচ আহত ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসার মতো মানুষের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা।
এমন সময় একজন অজ্ঞাতনামা সিএনজি চালক নিজের গাড়ি থামিয়ে আহত রাসেলকে সিএনজিতে তোলেন। এরপর তিনি উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে বারবার অনুরোধ করতে থাকেন, “ভাই, একজন আমার সঙ্গে চলেন। হাসপাতালে নিতে হবে।”
তাঁর কণ্ঠে ছিল উদ্বেগ, অসহায়ত্ব আর একজন মানুষের জীবন বাঁচানোর আন্তরিক চেষ্টা। কিন্তু শত মানুষের ভিড়েও তাঁর সেই আকুতির জবাব মেলেনি। কেউ এগিয়ে আসেননি।
তবুও তিনি থেমে থাকেননি। নিজের মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আহত যুবককে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁর সেই আকুতি ও মানবিক উদ্যোগ অসংখ্য মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ভিডিওটি দেখে অনেকেই মন্তব্য করেছেন “এমন মানুষই সমাজের প্রকৃত সম্পদ।”
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা–কদমতলী ইউনিয়নের কাটাখালী তক্তারপুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী মো. রাসেল নিহত হন।
এই ঘটনায় একদিকে যেমন একটি তরুণ প্রাণের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে, অন্যদিকে সামনে এসেছে সমাজের একটি কঠিন বাস্তবতা। প্রযুক্তির এই সময়ে অনেকেই দুর্ঘটনার মুহূর্তটি ধারণ করতে ব্যস্ত থাকেন, কিন্তু বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দ্বিধা করেন। অথচ দুর্ঘটনার পরের কয়েক মিনিটই অনেক সময় একটি প্রাণ বাঁচানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সেই অজ্ঞাতনামা সিএনজি চালকের নাম কেউ জানে না। তিনি কোথায় থাকেন, সেটিও অজানা। কিন্তু তাঁর মানবিক আচরণই তাঁকে সবার কাছে পরিচিত করে তুলেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, পরিচয়ের চেয়ে বড় হলো মানবিকতা।
রাঙ্গুনিয়ার এই ঘটনাটি আমাদের সবার জন্য একটি প্রশ্ন রেখে যায় আমরা কি শুধু দর্শক হয়ে থাকব, নাকি বিপদে একজন মানুষের পাশে দাঁড়াব? কারণ একটি ভিডিও হয়তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছুক্ষণ আলোচিত হবে, কিন্তু সময়মতো বাড়িয়ে দেওয়া একটি সাহায্যের হাত বাঁচিয়ে দিতে পারে একটি জীবন।
হয়তো সেই সিএনজি চালকের নাম ইতিহাসে লেখা থাকবে না। কিন্তু তাঁর মানবিকতা মনে করিয়ে দেবে—মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মনুষ্যত্ব। প্রতিবেদক- আব্বাস হোসাইন আফতাব