আব্বাস হোসাইন আফতাব : প্রবাসে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল। নতুন জীবনের পরিকল্পনাও করছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। তার আগেই নিভে গেল নীরব ইমনের জীবন।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার তরুণ নীরব ইমন মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি আবেগঘন পোস্ট করেন। সেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, মানসিক কষ্ট ও হতাশার কথা লিখেছিলেন। পাশাপাশি কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগও তোলেন। তবে ওই অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে পোমরা ইউনিয়নের হিলাগাজী পাড়া এলাকায় পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
স্থানীয়রা বলেন, নীরব ইমন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের মতে, কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে অদূর ভবিষ্যতে প্রবাসে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। তাই তার আকস্মিক মৃত্যু পরিবার ও এলাকাবাসীকে গভীর শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন জানান, কিছুদিন আগে ইমনের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের একটি অভিযোগ উঠেছিল। পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং মৃত্যুর আগে দেওয়া ফেসবুক পোস্টসহ ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
একটি তরুণ প্রাণের এমন আকস্মিক বিদায় আবারও মনে করিয়ে দেয়, মানসিক কষ্ট অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। তাই পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের পারস্পরিক সহমর্মিতা, খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনে মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
