আব্বাস হোসাইন আফতাব;
বয়স তখন মাত্র পাঁচ। বাবাকে হারিয়ে সংসারে নেমে আসে অনিশ্চয়তা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংসারের বড় দায়িত্ব এসে পড়ে ছোট্ট সাজ্জাদের কাঁধে। পড়াশোনার পাশাপাশি পরে জীবিকার তাগিদে রাজমিস্ত্রির কাজ বেছে নেন। তাঁর উপার্জনেই চলত মা ও দুই বোনের সংসার। অনেক কষ্টে এক বোনের বিয়ে দিয়েছেন। আরেক বোনের বিয়ে দেওয়ার স্বপ্নও ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। নির্মাণাধীন একটি ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন মো. সাজ্জাদ (২৩)।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সাজ্জাদ ওই এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্মাণাধীন একটি ভবনে কাজ করার সময় হঠাৎ বিদ্যুতায়িত হন সাজ্জাদ। সহকর্মীরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাবার মৃত্যুর পর থেকেই অভাব-অনটনের মধ্যে বড় হয়েছেন সাজ্জাদ। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে অল্প বয়সেই কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনিই হয়ে ওঠেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর আয়ে চলত মা ও দুই বোনের সংসার। সীমিত আয়ের মধ্যেও অনেক কষ্টে এক বোনের বিয়ে দেন। আরেক বোনের বিয়ের জন্যও সঞ্চয় করছিলেন।
নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেজামুল হক সায়েম বলেন, “সাজ্জাদ খুবই পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল ছিল। নিজের স্বপ্নের চেয়ে পরিবারের প্রয়োজনকে সব সময় বেশি গুরুত্ব দিত। অনেক কষ্ট করে এক বোনের বিয়ে দিয়েছে। ওর এমন মৃত্যু আমাদের স্তব্ধ করে দিয়েছে।”
প্রতিবেশীরা বলেন, সাজ্জাদ শান্ত স্বভাবের ও পরিশ্রমী একজন তরুণ ছিলেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক সম্পর্ক ছিল। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার যেমন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে, তেমনি এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক তরুণের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলেই জানা গেছে।
সাজ্জাদের মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানির ঘটনা নয়, এটি একটি পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম মানুষকে হারানোর গল্প। তাঁর অনুপস্থিতিতে মা ও বোনের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।