নিজস্ব প্রতিবেদক
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ঘাগড়াকূল এলাকার বাসিন্দা আজিজুল হক ওরফে জলিক্কা (৫৬) দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠলেও এবার পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এলাকায় স্বস্তির অনুভূতি প্রকাশ করছেন অনেক বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের তত্ত্বাবধানে এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আজিজুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক কেনাবেচার অভিযোগ প্রচলিত ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
এলাকার প্রবীণ এক বাসিন্দা বলেন, ‘অনেক বছর ধরে নানা অভিযোগ শুনে আসছি। কিন্তু এবার গ্রেপ্তারের ঘটনায় মনে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও সক্রিয় হয়েছে।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি প্রকাশ্যে আর মাদক ব্যবসা করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপরও তার বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে তিনি গ্রেপ্তার হন।
গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির পাশাপাশি নতুন প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করলেই হবে না, মাদক সরবরাহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সামাজিক প্রতিরোধ একসঙ্গে জোরদার করা প্রয়োজন। তাহলেই তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।