বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন

৩২ বছরের আলোকিত পথচলার ইতি: অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় বিদায় নিলেন অধ্যাপক নুরুল মোমেন চৌধুরী

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের পাঠই দেন না, তিনি গড়ে তোলেন মানুষের জীবন। তেমনি একজন শিক্ষক ছিলেন রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ নুরুল মোমেন চৌধুরী। ১৯৯৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর যে মানুষটি স্বপ্ন, আদর্শ আর জ্ঞানের আলো হাতে নিয়ে এই কলেজে যোগ দিয়েছিলেন, দীর্ঘ ৩২ বছর পর সেই পথচলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। তবে শেষ হলো না তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি, ভালোবাসা আর শিক্ষার উত্তরাধিকার।
পিআরএলজনিত শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে রোববার (২৬ জুলাই) কলেজ মিলনায়তনে তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে জড়ো হন সহকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শুভানুধ্যায়ীরা। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আবেগ, স্মৃতিচারণ আর এক প্রিয় মানুষকে বিদায় জানানোর বেদনাময় অনুভূতি।
কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আনিছুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কলেজের প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ এ. কে. এম. সুজাউদ্দিন, প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক এন. কে. এম. শাহরিয়ার, ড. সৌমিত্র বড়ুয়া, সৈয়দ মোহাম্মদ নাসিম উদ্দিন এবং দর্শন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান মনোজিত কুমার ধর। এছাড়া বক্তব্য দেন মোহাম্মদ মোকতার হোসেন, মোহাম্মদ মহসীন, ড. মর্তুজা মোরশেদুল আনোয়ার, শিরিন আক্তার, হোমায়রা রওশন, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, জীনাত জাহান, সাবিত্রী দাশ, মো. জাহেদুল আলম, বেগম তাহমিনা ইয়াসমিন নূর, জয়নাল আবেদীন, মো. ইফতেখার হোসাইন, ইফতেখার আলম, আখতারুজ্জামান ও মোতাহের হোসাইনসহ কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বক্তারা বলেন, অধ্যাপক নুরুল মোমেন চৌধুরী ছিলেন এমন একজন শিক্ষক, যিনি শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেননি; সততা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবন আলোকিত করেছেন। তাঁর কক্ষের দরজা যেমন শিক্ষার্থীদের জন্য সবসময় খোলা ছিল, তেমনি সহকর্মীদের কাছেও তিনি ছিলেন আন্তরিকতা, প্রজ্ঞা ও সৌহার্দ্যের প্রতীক।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সহকর্মীদের স্মৃতিচারণ আর শুভকামনায় মিলনায়তনের পরিবেশ হয়ে ওঠে আবেগঘন। অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু। বিদায়ী শিক্ষকও দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ তাঁর কাছে শুধু একটি কর্মস্থল নয়, এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় ঠিকানা।
শেষে তাঁকে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত সবাই তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শান্তিময় অবসরজীবন কামনা করেন। কর্মজীবনের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি হলেও, তাঁর আদর্শ, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ বেঁচে থাকবে রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজের অগণিত শিক্ষার্থী ও সহকর্মীর হৃদয়ে। প্রতিবেদন- আব্বাস হোসাইন আফতাব

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews