আব্বাস হোসাইন আফতাব
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এর নেতৃত্বে স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৮ জন তরুণ-তরুণী। কোনো ধরনের ঘুষ, তদবির বা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় তাদের এই সাফল্য এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
নবনিযুক্তদের এ অর্জনকে স্বীকৃতি জানাতে সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন ফুল দিয়ে ৮ নবীন পুলিশ সদস্যকে বরণ করে নেন এবং মিষ্টিমুখ করান। এ সময় থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ওসি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন নবনিযুক্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “তোমরা মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানের সুযোগ পেয়েছ। এই অর্জন ধরে রাখতে সততা, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করে মানবিক পুলিশ সদস্য হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক। কোনো দালাল, তদবির বা ঘুষের সুযোগ নেই। চাকরিপ্রার্থীরা যেন কোনো প্রতারকের খপ্পরে না পড়েন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।রাঙ্গুনিয়ার ৮ জন তরুণ-তরুণীর চাকরি পাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, সঠিক প্রস্তুতি ও যোগ্যতা থাকলে সৎ উপায়ে সরকারি চাকরি অর্জন সম্ভব।”
নবনিযুক্ত জয় দে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশে চাকরি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ভুল ধারণা ছিল। কিন্তু এবার কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়াই চাকরি হওয়ায় খুবই আনন্দ লাগছে। তারা আশা করছেন, এই ঘটনা অন্য চাকরিপ্রার্থীদেরও মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হলে দুর্নীতি কমবে, মেধাবীরা মূল্যায়িত হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে। রাঙ্গুনিয়ার ৮ তরুণ-তরুণীর এই অর্জন সেই ইতিবাচক পরিবর্তনেরই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।