রাঙ্গুনিয়ার বিআইজেড মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরপর দুই দফা চুরির ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ে ঢুকে বৈদ্যুতিক সংযোগের মূল্যবান তার খুলে নিয়ে যায়। এতে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ তিন দিন বন্ধ থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের ব্যবধানে একই বিদ্যালয়ে দুই দফা চুরির ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ চুরিতে বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক সংযোগের মূল্যবান তার খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে চুরির বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একই প্রতিষ্ঠানে পরপর দুই দফা চুরির ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল গফুর বলেন, “একই বিদ্যালয়ে বারবার চুরির ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। সর্বশেষ চুরিতে মূল্যবান বৈদ্যুতিক তার নিয়ে যাওয়ায় তিন দিন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল। এতে শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রানী গোপ বলেন, “চুরির বিষয়ে থানাকে জানানো হয়েছে।”
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম ও দাপ্তরিক কাজেও সমস্যা সৃষ্টি হয়। তবে প্রয়োজনীয় মেরামতের পর বর্তমানে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। নৈশ প্রহরী থাকার পরও একই বিদ্যালয়ে পরপর দুই দফা চুরির ঘটনায় তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।