নিজস্ব প্রতিবেদক
রাঙ্গুনিয়া পৌরসভায় টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে শত শত উপকারভোগী সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ওয়ার্ডভিত্তিক উপকারভোগীর সংখ্যা সংশোধনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার জন্য সর্বমোট ২ হাজার ৮০১টি টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বরাদ্দ রয়েছে। সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ এর জনসংখ্যার তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্ড বণ্টন করা হয়। তবে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃপক্ষের ওয়ার্ডভিত্তিক বরাদ্দকৃত কার্ড সংখ্যা এবং পৌরসভা কর্তৃক টিসিবি সফটওয়্যারে আপলোডকৃত উপকারভোগীর তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় কার্ড বিতরণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
পৌরসভার তথ্যমতে, ৯টি ওয়ার্ডে মোট ২ হাজার ৮০১ জন উপকারভোগীর তথ্য অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৪২ জন উপকারভোগী ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে টিসিবি কার্ড পেয়েছেন। ফলে বর্তমানে ৮৫৯ জন উপকারভোগী এখনও কার্ড প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে টিসিবি কর্তৃপক্ষের বরাদ্দের তুলনায় বেশি সংখ্যক উপকারভোগীর তথ্য সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে কয়েকটি ওয়ার্ডে বরাদ্দকৃত সংখ্যার তুলনায় কম তথ্য আপলোড হওয়ায় সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অবশিষ্ট উপকারভোগীদের স্মার্ট টিসিবি ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এ অবস্থায় রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার প্রশাসক দেবব্রত দাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রেরিত এক আবেদনে ওয়ার্ডভিত্তিক উপকারভোগীর তালিকা সংশোধনপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে পৌর এলাকার অনেক সাধারণ মানুষ টিসিবির সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, “পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রেরিত আবেদনটি আমরা পেয়েছি। ওয়ার্ডভিত্তিক টিসিবি কার্ডের তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত উপকারভোগীরা যাতে টিসিবির সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
পৌরবাসীর স্বার্থে বিষয়টির দ্রুত সমাধান এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে টিসিবি কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।