শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; একজন শিক্ষার্থীর চরিত্র গঠন, নেতৃত্বের বিকাশ এবং দায়িত্ববোধ তৈরিও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ—শ্রেণি মনিটরদের মাঝে মনিটর ব্যাজ বিতরণ।
২৫ জুন প্রধান শিক্ষক এম. মিজানুর রহমান নির্বাচিত মনিটরদের আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাজ পরিয়ে দেন। বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষকও উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে ব্যাজ তুলে দেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করেন। এ বছর বিদ্যালয়ের ২০টি শ্রেণি-শাখার মোট ৮০ জন মনিটর এ স্বীকৃতি পেয়েছে।
প্রথম দর্শনে একটি ব্যাজকে সাধারণ মনে হলেও এর তাৎপর্য অনেক গভীর। একজন শিক্ষার্থীর জন্য এটি শুধু পরিচয়ের চিহ্ন নয়; বরং দায়িত্ব, আস্থা ও নেতৃত্বের প্রতীক। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন কোনো শিক্ষার্থীর হাতে মনিটরের দায়িত্ব তুলে দেয়, তখন তার প্রতি একটি বিশেষ বিশ্বাসও প্রকাশ পায়।
মনিটরদের অন্যতম দায়িত্ব হলো শ্রেণিকক্ষের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করা, সহপাঠীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করা। ব্যাজ পরিধানের মাধ্যমে তারা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে সহপাঠীরাও সহজে তাদের চিহ্নিত করতে পারে, যা শ্রেণি পরিচালনাকে আরও কার্যকর করে তোলে।
শিক্ষাবিদদের মতে, বিদ্যালয় পর্যায়ে নেতৃত্বের চর্চা একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ছোটবেলা থেকেই দায়িত্ব গ্রহণ, সিদ্ধান্ত নেওয়া, দল পরিচালনা করা এবং অন্যদের সহযোগিতা করার অভ্যাস একজন শিক্ষার্থীকে আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আজকের এই ছোট্ট ব্যাজ হয়তো আগামী দিনের কোনো সফল প্রশাসক, শিক্ষক, উদ্যোক্তা কিংবা সমাজনেতার নেতৃত্বের প্রথম স্বীকৃতি।
একটি ব্যাজের মূল্য ধাতুতে নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দায়িত্ববোধে। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই জন্ম নেয় আগামী দিনের সৎ, দক্ষ ও মানবিক নেতৃত্ব।