আইনের চোখে সবাই সমান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, সচেতনতার অভাব এবং জটিল আইনি প্রক্রিয়ার কারণে অনেক মানুষ ন্যায়বিচারের পথ থেকে দূরে সরে যান। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে অসহায়, নির্যাতিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য আইনি সহায়তা পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। সেই বাস্তবতা বদলানোর প্রত্যয়ে রাঙ্গুনিয়ায় যাত্রা শুরু করেছে “রাঙ্গুনিয়া আইনি সহায়তা কেন্দ্র”।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেইটের পশ্চিম পাশে হানিফ তালুকদার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় নতুন কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী আয়োজনকে ঘিরে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন রাহাতিয়া দরবারের সাজ্জাদানশীন মোহাম্মদ ওবাইদুল মোস্তফা নঈমী । সভাপতিত্ব করেন এডভোকেট এম ইকবাল হাসান। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, আইনি সহায়তা কেবল একটি সেবা নয়, এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
অনুষ্ঠানে আলোচকরা তুলে ধরেন, পারিবারিক বিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন, জমিজমা সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা সামাজিক নানা সমস্যায় অনেক মানুষ আইনি পরামর্শের অভাবে ভোগেন। অনেকেই মামলার খরচ বা আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণে অক্ষম হওয়ায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। নতুন এই কেন্দ্র সেই মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে কাজ করবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট মো. সেকান্দর, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী, উপজেলা ইসলামী ফ্রন্ট সভাপতি মো. করিম উদ্দিন হাসান, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম আজাদ, শিক্ষক রহিম উদ্দিন সিকদার, এডভোকেট নুর হোসেন, ক্বারী মোহাম্মদ ইদ্রিচ, মো. আমজাদ হোসেন ও মো. সেলিম।
বক্তারা মনে করেন, আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিনামূল্যে পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে এই কেন্দ্র সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী, শিশু এবং নির্যাতিত মানুষের জন্য এটি একটি আস্থার জায়গা হয়ে উঠতে পারে।
রাঙ্গুনিয়ার মতো একটি জনবহুল উপজেলায় আইনি সহায়তা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা শুধু একটি অফিস উদ্বোধনের ঘটনা নয়; এটি ন্যায়বিচারকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে যাওয়ার একটি সামাজিক উদ্যোগ। সমাজের দুর্বল ও বঞ্চিত মানুষের জন্য এই কেন্দ্র ভবিষ্যতে আশ্রয়, পরামর্শ ও সাহসের ঠিকানা হয়ে উঠবে, এমন প্রত্যাশা সবার।