গানের মঞ্চ থেকে মানুষের পাশে, মানবিকতার অন্য নাম পিজিত মহাজন
প্রকাশিত:
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
৬২
বার পড়া হয়েছে
আব্বাস হোসাইন আফতাব : গান তাঁর পেশা, মানুষ তাঁর প্রেরণা। তাই স্টেজ শো, গান লেখা, সুর করা আর রেকর্ডিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও মানুষের দুর্দিনের খবর পেলেই ছুটে যান তিনি। শিল্পী হিসেবে পরিচিতি থাকলেও মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্যও সমানভাবে পরিচিত হয়ে উঠছেন তরুণ সংগীতশিল্পী পিজিত প্রসেনজিত মহাজন।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পর নিজের জন্মভূমি রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছেন তিনি। গানের আকাশে উজ্জ্বল এক নাম পিজিত মহাজন।
শুধু দেশের বিভিন্ন মঞ্চেই নন, বাংলাদেশের কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গেও গান গেয়েছেন। পপস্টার ফেরদৌস ওয়াহিদের অত্যন্ত স্নেহধন্য পিজিত একই মঞ্চে গেয়েছেন রকস্টার আয়ুব বাচ্চুর সাথেও। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তীর সঙ্গেও দ্বৈত গান গাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর। সংগীতজীবনের এই অর্জনের পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করাকেই তিনি নিজের সবচেয়ে বড় সাফল্য মনে করেন।
‘মানুষ’ মানুষের জন্যই একটি সংগঠন
পিজিতের প্রতিষ্ঠিত মানবিক সংগঠন ‘মানুষ’ নিয়মিতভাবে নানা সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি সংগঠনটি বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে বাবা-মা দিবসে প্রবীণদের সঙ্গে সময় কাটায়, গান শোনায় এবং উপহার দেয়।
প্রতি শীতে পথশিশু ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। আবার বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কিছুদিন পর দুর্গত এলাকায় বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্পেরও আয়োজন করে সংগঠনটি।
ত্রাণ নয়, ভালোবাসাও পৌঁছে দেন
সাম্প্রতিক বন্যায় বাঁশখালীতে প্রায় ৫০০ মানুষের জন্য রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করেন পিজিত ও তাঁর সহযোদ্ধারা। পরে সাতকানিয়ার ২০০টি পরিবারের হাতে শুকনো খাবার তুলে দেন। সেই কার্যক্রম শেষ করেই তিনি চলে আসেন রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে।
পিজিত বলেন, “আমি গানের মানুষ। প্রতিটি কনসার্ট থেকে চেষ্টা করি মানুষের জন্য একটি তহবিল রাখতে। আমার গানপাগল ভাইয়েরা সব সময় শারীরিক শ্রম ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে পাশে থাকেন। তাদের কারণেই এসব কাজ সম্ভব হয়। ছোটবেলায় দেখতাম মা লুকিয়ে লুকিয়ে অসহায় মানুষকে সাহায্য করতেন। সেই শিক্ষাই আমাকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে শিখিয়েছে।”